Skip to content

প্রয়োজনে মরতেও প্রস্তুত আছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনে আমি মরতেও প্রস্তুত আছি।"

তিনি বলেন, পঁচাত্তরে আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের বাইরে থাকার কারণে আমি ও আমার ছোট বোন রেহেনা সেইবার প্রাণে বেঁচে যাই। আমি আমার পিতার মতো দেশের মানুষের কল্যাণ চাই। প্রয়োজনে এর জন্য মরতেও প্রস্তুত আছি।

সোমবার বিকেল ৪টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি জনসভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে দুপুর পৌনে ২টার সাতক্ষীরায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, "যুদ্ধপরাধীদের বিচারসহ যারা সাতক্ষীরায় হামলা করেছে, যারা এই সাতক্ষীরাকে রক্তাক্ত করেছে তাদের কারো রেহাই নেই। তাদের বিচার হবেই হবে। রক্তাক্ত সাতক্ষীরা আর রক্তাক্ত থাকবে না। এছাড়া জামাত-শিবির ও বিএনপি যাদের বাড়িঘর ভেঙ্গেছে তাদের বাড়িঘর তৈরি করে দেব। ইতোমধ্যে আমরা বিজিবিকে দায়িত্ব দিয়েছি।”

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জামায়াতের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে খালেদা জিয়া নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন, নির্বাচনে বাধা দিয়েছেন, হামলা চালিয়েছে। আমরা এসব বাধা উপেক্ষা করে নির্বাচন সফল করেছি। নির্বাচনে না যাওয়ার খেসারত খালেদাকে দিতে হবে।”

খালেদা জিয়াকে ‘অশান্তি বেগম’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে একজন অশান্তি বেগম আছেন। তিনি মানুষের শান্তি দেখতে পারেন না। মানুষের শান্তি দেখলে উনার অশান্তি শুরু হয়।”

যুদ্ধপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ায় বিএনপি নেতার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। বিএনপি নেতারা যুদ্ধপরাধীদের বিচার বানচালের চেষ্টা করেছেন। উনি বিচার চান না। কারণ উনার মন পড়ে আছে পেয়ারে পাকিস্তানে। শয়নে স্বপনে উনি পাকিস্তানের স্বপন দেখেন। এ কারনেই উনি যুদ্ধপরাধীদের বিচার চান না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চাইবে না। কারো কাছে মাথা নত করবে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এদেশের মানুষকে মাথা নত করতে দেবো না। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করি। খালেদা জিয়া ওই বিচার বন্ধের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পারেন নি।”

এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের আগামী মাস থেকে দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ৫ হাজার টাকা করা হবে। শুধু তাই নয়! সাতক্ষীরায় উন্নয়নের এই ধারা অব্যহত থাকবে।” এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানাতে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করে। সমাবেশস্থলের চারপাশ সাজানো হয় বিভিন্ন পোস্টারে। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, সদস্য এসএম কামাল হোসেন, সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সাতক্ষীরা ৩ আসনের এমপি ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা ১ আসনের এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা ২ আসনের এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা ৪ আসনের এমপি সম জগলুর হায়দায়, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী বেগম রিফাত আমিন, সাবেক ছাত্রনেতা তারেক উদ্দীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন, প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম।

x