Skip to content

মেয়াদ পূর্ণ করার পরিকল্পনা

সরকারের মেয়াদের পুরো সময় পার করার পরিকল্পনা নিয়েই অগ্রসর হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপির সঙ্গে সংলাপের আগ্রহ দেখালেও সহসাই এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং সরকারের ওপর জনগণের আস্থা বাড়ানোর বিষয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

নির্বাচনের আগে গত কয়েক মাসের সহিংসতা এবং নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-নির্যাতনকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তা দূর করা, সরকার-প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং সরকারের ওপর আস্থা বাড়বে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলে নির্ধারিত সময়ের আগে পরবর্তী নির্বাচন করার ব্যাপারে চাপ কম থাকবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

এদিকে সমস্যা সমাধানে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের ব্যাপারে আগ্রহ থাকলেও সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো সমঝোতার দিকে যাবে না আওয়ামী লীগ। অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন না করার ব্যাপারে আগের অবস্থান অব্যাহত রেখে অগ্রসর হবে দলটি। এর ফলে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতাও কঠিন হয়ে পড়বে।

দশম সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠন এবং তাতে বিএনপির প্রতিনিধি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় দশম সংসদে তাদের প্রতিনিধি নেই। আগামীতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরকারের বিষয়ে কোনো সমঝোতার চিন্তাভাবনা করা হলেও বিএনপির জন্য সে সুযোগ থাকছে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপি এ কূল, ওকূল দুই কূলই হারিয়েছে। নির্বাচনে না এসে খালেদা জিয়া ভুল করেছেন। ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সে ধরনের ইঙ্গিতও বহন করে বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে নিশ্চয় সুদূরপ্রসারি অর্থ আছে। অনির্বাচিতদের হাতে আর যাতে ক্ষমতা না যায় সে জন্যই তো বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচন করেছে আওয়ামী লীগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, সবে নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখনই যদি সংলাপ-সমঝোতা করতে হয় তবে এত বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কি আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে যেত। গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমরা ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত সরকার। ৫ বছরই থাকব।

সূত্র জানায়, সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সামনে অনেক সময় আছে। আলাপ আলোচনা করে ভালো কিছু থাকলে তা গ্রহণ করতে আপত্তি নেই।

এদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি-জামায়াত যাতে পুনরায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, জ্বালাওপোড়াও এবং মানুষ হত্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং বিচারের রায় কার্যকর প্রক্রিয়াও অচিরেই শুরু করা হবে। বিভিন্ন দিক থেকে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে যে দাবি উঠেছে সে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এ ব্যাপারে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে নেতারা জানান।

তবে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে দুর্নীতি দূর করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে যে জনপ্রিয়তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে মন্ত্রিসভাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কারো কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সেই জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করে বলে নেতারা জানান।

এ কারণেই বর্তমান সরকারের শুরুতেই দুর্নীত দূর করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সময়ও এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে তাদের নেয়া হয়নি। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপ-মন্ত্রীরা যাতে দুর্নীতিতে জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

এদিকে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে জনসাধারণের সমর্থন বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির জন্য দলকে মাঠে নামানো হবে।

এ জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রমও শুরু করা হচ্ছে। দ্রুতই সাংগঠনিক সফরে যাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এই সাংগঠনিক সফর যাতে ভালো হয় সে ব্যাপারে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সাংগঠনিক সফরের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন শুধু জেলায় গিয়ে বক্তৃতা দিলে আসলে হবে না। সেখানকার সমস্যা নিয়ে দলের নেতাকর্মীসহ জনগণের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

x