মানতে হবে, তারপর সংলাপ: তোফায়েল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপিকে সংলাপে বসতে হলে বর্তমান সরকারকে আগে মেনে নিতে হবে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গও তাদের ছেড়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সংলাপ তো আমরাও করতে চাই। সংলাপ হলো একটা চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু সংলাপটা হবে কার সঙ্গে?

“একটা দল যখন একটা সরকারকে অবৈধ বলে, নির্বাচন হয় নাই বলে, তাহলে সেই দলটা এই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংলাপ করবে কীভাবে? তাদের তো আগে এই সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।”

সংলাপ না হওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের ভিন্ন অবস্থানকেও দায়ী করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা।

তিনি বলেন, “এখন চেয়ারপারসন বলছেন, সংলাপের কথা। আর তার সন্তান বলছেন, এই সরকারের সঙ্গে সংলাপ হবে না। এই কথা বলার পরে তারা উপলব্ধি করেছে যে, এটা হয় না। সুতরাং আমরা আমাদের পথে সঠিকভাবে আছি, সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।”

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের বর্জনের মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনকে ‘ভোটারবিহীন’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানায় বিএনপি, যদিও ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানায়।

সরকার গঠনের আট দিনের মাথায় রাজধানীতে এক জনসভায় বর্তমান সরকার ‘অস্ত্রের জোরে’ ক্ষমতায় রয়েছে মন্তব্য করে ‘আলোচনার মাধ্যমে’ অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান খালেদা জিয়া।

সংলাপের জন্য বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগের যে শর্ত দেয়া হয়েছিল সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, “বলা হয়েছিল, জামায়াত-শিবির ত্যাগ করতে হবে। ত্যাগ তো করেই নাই, বরং ফখরুল ইসলাম সাহেব সেদিন বলেছেন, জামায়াত-শিবির তাদের সঙ্গে থাকবে। তাহলে সংলাপটা হবে কীভাবে?”

বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ঘটিয়েছে তাতে তাদের লাভ হয় নাই। এটা তারাও বুঝেছে। সহিংস রাজনৈতিক পথ তারা পরিহার করেছে বলেই আমার মনে হয়।”

বিএনপি না থাকলেও আগের সংসদের চেয়ে বর্তমান সংসদ বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা তোফায়েল।

“আমি মনে করি বিগত সংসদের থেকেও এই সংসদ বেশি কার্যকর হবে। কারণ বিগত সংসদে বিরোধী দল ছিলই না। ৪১৮টা কার্যদিবস হয়েছে, তার মধ্যে বিরোধী দল এসেছে ৭৬ দিন, আর বিরোধী দলের নেতা এসেছেন ১০ দিন। তার মানে বিরোধী দল কি ছিল সংসদে।”

দশম সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে সরকারের মন্ত্রী থাকলেও এবার ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে সংসদ প্রাণবন্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, “এখন এমন একটা বিরোধী দল হয়েছে যারা সংসদে থাকবে। বিরোধী দলের নেতাও আছেন, তারা বক্তৃতাও দেবে, তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করবে। সেইজন্য সংসদ প্রাণবন্ত হবে, কার্যকরও হবে।”

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য পণ্য ও বাজার বিস্তৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, “আমাদের দুইটা লক্ষ্য বড়। একটা পণ্য বহুমুখীকরণ, আরেকটা হলো বাজার বহুমুখীকরণ।”

রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “গত দু’তিন মাসে যে আস্থার সংকট হয়েছিল সেই আস্থার সংকটটা এখন দূর হবে। আমরা প্রকৃতভাবেই দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবো।”

x