Skip to content

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়: সারসংক্ষেপে বিচারক যা বললেন

চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ের একটি সার সংক্ষেপ পড়ে শোনান চট্টগ্রাম স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবর রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে এজলাসে উঠেন বিচারক। দুই পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ পড়া শুরু করেন এবং ২২ মিনিট সময়ে তা পড়া শেষ করে ১২ টা ৪২ মিনিটে আলোচিত রায়টি ঘোষণা করেন তিনি।

রায়ের সারসংক্ষেপে বিচারক বলেন, এটা একটি ট্রায়াল কোর্ট। সাক্ষ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাক্ষ্য-প্রমানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ আমার নেই। বিচারক বলেন এটি একটি বড় মামলা। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গোয়েন্দাসংস্থা এসএসআই ও ডিজিএফআই-এ কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা এই মামলায় আসামী হিসেবে আছেন। সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে তারা একে অপরকে জড়িয়ে কথা বলেছেন। তাতে বোঝা গেছে উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া ও অনুপ চেটিয়ার সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক ছিলো। পরেশ বড়ুয়া সঙ্গে এনএসআই’র মত একটি প্রতিষ্ঠানে মহাপরিচালকের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি সাক্ষ্য প্রমাণে উঠে এসেছে। তারা বিভিন্ন সময়ে মিটিং করেছেন। পরেশ ও অনুপের সঙ্গে একই ফ্লাইটে দুবাই গেছেন এনএসআই’-এর ডিজি।

রায়ের সারাংশে মতিউর রহমান নিজামীর বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে বিচারক বলেন, চট্টগ্রামে সিইউএফএল জেটিঘাট তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো। সাক্ষ্য প্রমাণে বিষয়টি উঠে এসেছে। বিসিআইসি ও সিইউএফল জেটিঘাট নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা মতিউর রহমান নিজামী নিজেই স্বীকার করেছেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিষয়ে বিচারক বলেন, বাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তার নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। অস্ত্র আটকের পর বাবর চট্টগ্রাম এসে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বলেছিলেন ‘এটা একটা সেনসেটিভ মামলা, তোমরা কেউ মুখ খুলবে না’।

চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রাজনৈতিক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে উল্লেখ করে বিচারক বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবর ও মতিউর রহমান নিজামী বারবার অভিযোগ করেছিলেন তাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। কিন্তু সাক্ষিদের সাক্ষ্যে এ ধরণের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ মামলায় কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি সাক্ষ্য দেননি। নিজামী ও বাবরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদাতা কেউ তাদের প্রতিপক্ষ দলের ছিলেন না। তাই নিজামী ও বাবরের যুক্তি গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।

উল্লেখ্য, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়াসহ ১৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবর রহমান।

x