Skip to content

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভারে ন্যুব্জ ইসি

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভারে ন্যুব্জ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারাদেশে অবকাঠামো এখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে গঠিত। থানা নির্বাচন অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার সর্বত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ছড়াছড়ি। সারাদেশে ইসির যে ১০টি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে সেগুলোর দায়িত্বেও রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এ নিয়ে কমিশনের কোনো মাথা ব্যথা নেই। কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ অবস্থায় কমিশনের কাজ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

দুই-আড়াই যুগের পুরনো কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দেওয়ায় কমিশনে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। একটি জনবল কাঠমো চূড়ান্ত করে বিগত হুদা কমিশন কতিপয় কর্মকর্তার পদোন্নতি দিলেও সম্প্রতি এ কাঠামো অবৈধ বলে বিবেচনা করছে বর্তমান ইসি। এ অবস্থায় এ সব পদোন্নতিও এক প্রকার অবৈধ হয়ে গেছে।

বিতর্কিত গ্রেডেশন লিস্ট, পদোন্নতিতে বৈষম্য, মাঠ কর্মকর্তাদের ইসিতে নিয়োগসহ নানা ইস্যুতে কমিশন এখন উত্তপ্ত। কমিশনের কর্মকর্তারা ভাগ হয়েছেন বিভাগে। সিইসি সম্প্রতি হতাশাগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য নতুন নিয়োগবিধি করার দোহাই দিলেও তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন শেষ হলেই আন্দোলনে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব ড. মুহাম্মদ সাদিক বলেন, পদোন্নতিতে সৃষ্ট জটিলতা অবসানে কমিশন নতুন নিয়োগবিধি প্রণয়নসহ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে এ সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যাও এতে কমে যাবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুইযুগ বা তারও বেশি সময় ধরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একই পদে চাকরি করছেন এমন ২৫ জন কর্মকর্তার এ পর্যন্ত কোনো পদোন্নতি হয়নি। একই পদে এত বছর চকরি করার নজির খুবই বিরল। খুলনা, রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং ফরিদপুরে ১০টি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। এ ১০ জন আঞ্চলিক কর্মকর্তার অধীনে সারাদেশে থানা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা পরিচালিত হন। অথচ এ ১০ কর্মকর্তাই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে এ পদে আছেন। উপ-সচিবের একধাপ উপরের স্কেলের কর্মকর্তা এ পদে আসীন হওয়ার কথা থাকলে এখন যারা আছেন তাদের মধ্যে ৪ জন উপ-সচিব এবং ৬ জন সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

একইভাবে সারাদেশে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার যে পদ রয়েছে তাতে ২০ জনই ভারপ্রাপ্ত। অর্থাৎ সহকারী সচিব পদমর্যাদার থানা কর্মকর্তারাই চালাচ্ছেন সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার জেলা নির্বাচন অফিস।

একইভাবে থানা নির্বাচন অফিসেও সারাদেশে ৭০ জন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা স্টেনোগ্রাফার বা উচ্চমান সহকারী পদ থেকে প্রথম শ্রেণীর থানা নির্বাচন অফিসারের চলতি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। আবার এ পদে বহাল হতে গিয়ে অনেককেই খরচ করতে হয়েছে নগদ অর্থও।

এভাবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়, ইলেকশন ট্রেনিং ইনস্টিউটও চলছে অধিকাংশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি বিতর্কিত গেডেশন লিস্ট দিয়ে বিগত সিইসি ড. এটিএম শামসুল হুদা ২০১২ সালের শেষ দিকে বেশকিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেন। এ পদোন্নতির ক্ষেত্রে চাকরির বয়স হিসাব না করে আগের পদোন্নতির হিসাব করা হয়। আবার যে অর্গানোগ্রামের (জনবল কাঠামো) অধীনে এ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয় তা অবৈধ ছিল বলে শনাক্ত করেছে বর্তমান কমিশন। এতে হুদা কমিশনের দেওয়া সব পদোন্নতিও অবৈধ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এ অবস্থায় একজন ভারপ্রাপ্ত উপ-সচিব মতিয়ার রহমান বর্তমানে নতুন নিয়োগবিধি প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। এ কর্মকর্তা সম্প্রতি মাঠপর্যায় থেকে এসেছেন। নতুন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করার মতো যোগ্যতা, দক্ষতা এ কর্মকর্তার আছে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান ইসির সব কর্মকর্তা।

এ অবস্থায় এ জট কখন খুলবে তা জানতে গত সপ্তাহে সিইসি ও ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা। কিন্তু সিইসি বা সচিব কেউ এর সদুত্তর দিতে পারেননি। এতে কর্মকর্তাদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। (দ্য রিপোর্ট)

x