Skip to content

অনেক পাওয়ার প্রত্যাশা পাপনের

আইসিসির গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস করাতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না তিন মোড়লের (ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া)। তবে প্রস্তাব পাস করাতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে ভারত। সিঙ্গাপুর সভায় যে আটটি ক্রিকেট বোর্ডের ভোট তারা পেয়েছে তার পেছনে রয়েছে ভূরি ভূরি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

আর সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখেই আটটি দেশ ভোট দিয়েছে তিন মোড়লের দেওয়া খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতিকেও অনেক কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর সেই প্রতিশ্রুতির কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বাংলাদেশও ভোট দিয়েছে তিন মোড়লের পক্ষে।

এই প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে বাংলাদেশ কী কী পেতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে তাই তুলে ধরেছেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তার মতে, ভারতের সঙ্গে চারটি সফরের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই তিনি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সঙ্গেও আগের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন তিনি।

প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ভারত সফরের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে আরো বেশ কিছু সফরের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন তিনি।

এফটিপির ২০১২-২০ সূচিতে চলতি বছরের জুনে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে (শুধু একদিনের ম্যাচ)। ২০১৩ সালের জুনে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভারতের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় ২০১৬ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারত সফরের সুযোগ পেতে যাচ্ছে।

এ ছাড়া ২০২০ সালে ভারত টেস্ট এবং একদিনের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে একমত হয়েছে।

এ বিষয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘ভারত ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সফর করবে। আর সে কারণেই আমরা ভারতের পক্ষে সমর্থন দিয়েছি। পরের বছর টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভারত বাংলাদেশ সফর করবে। ২০১৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে ভারত সফর করবে। ২০২০ সালের জুন মাসে ভারত টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে। আসলে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বড় দেশগুলোর সঙ্গে আরো বেশি টেস্ট খেলা। আর সেটার নিশ্চয়তা আমরা পেয়েছি। তাদের আঁটসাঁট সূচি না থাকলে হয়তো আরো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া যেত।’

বিসিবি সভাপতি আরো জানান, অস্ট্রেলিয়া টেস্ট খেলতে ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফর করবে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে। এ ছাড়া ২০২১ সালেরও সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া আসবে বাংলাদেশে।

পাপন বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুতে স্বাক্ষর দিইনি। আমরা আসলে তাদের সমর্থন দিয়েছি। শিগগিরই আমরা তাদের সঙ্গে দিন তারিখ ঠিক করব। আমরা ইংল্যান্ডের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করিনি। কিন্তু তারা ২০২০ সাল পর্যন্ত আমাদের এফটিপি ট্যুরের প্রতি সম্মান দেখাতে রাজি হয়েছে। তারাও দুবার বাংলাদেশ সফর করতে রাজি হয়েছে।’

এফটিপি সূচি অনুযায়ী ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। কিন্তু বিসিবি আরো বেশি সফরের আশা করছে।

বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, যেহেতু বাংলাদেশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে প্লে অফ খেলবে, তাই বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে ভালো দলগুলোর সঙ্গে বেশি বেশি টেস্ট খেলা। যাতে করে আইসিসির টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্রুত বাংলাদেশের উন্নতি হয়। আগামী ছয়-সাত বছরে কমপক্ষে ৫০টি টেস্ট খেলার টার্গেট রয়েছে পাপনের।

তিনি বলেন, ‘এফটিপি অনুসারে ২০২০ সাল পর্যন্ত আমাদের ৩৩টি টেস্ট খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন সূচিতে আরো পরিবর্তন আসবে। আমরা আসলে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫০টি টেস্ট খেলার টার্গেট করছি। এখন আমরা বড় দলগুলোর সঙ্গে বেশি বেশি ম্যাচ খেলব। তাদের বিপক্ষে যদি আমরা জিততে বা ড্র করতে পারি তাহলে র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের উন্নতি হবে। আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই আমাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাই আপনারা বলতে পারেন আমরা সফল।’

x