Skip to content

শুরু হচ্ছে ২ দিনব্যাপী আব্দুল করিম লোক উৎসব

শনিবার থেকে দিরাইয়ে শুরু হচ্ছে আব্দুল করিম লোকউৎসব।

প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে উজান ধল মাঠে আয়োজন করা হয়েছে এ উৎসবের।

২ দিনব্যাপী লোক উৎসবকে সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উজান ধলের সবুজ মাঠকে দর্শনীয় করে তুলতে ভক্ত অনুরাগীসহ লোক উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্যরা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

লোক উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক করিমপুত্র শাহ নুরজালাল বাবুল জানান, বিগত শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব বাংলালিংক মোবাইল কোম্পানি পৃষ্ঠপোষকতা করলেও এবার নবম লোক উৎসব ধল গ্রামবাসিদের নিয়ে নিজেরাই করছি। তিনি বলেন, এবারের লোক উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলতে নানা উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। দেশের সুনামধন্য শিল্পী-কুশলীরা গান পরিবেশন করবেন।
অতিথি হিসেবে আলেচনায় অংশ নিবেন বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে করিমের ভক্তরা ধল গ্রামে আসতে শুরু করেছেন।

বাউল গানের কিংবদন্তী শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। তিনি তাকে আদর করে ডাকতেন ‘সরলা’।

ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে। তিনি তার গানের অনুপ্রেরনা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ এর দর্শন থেকে। যদিও দারিদ্র তাকে বাধ্য করে কৃষিকাজে তার শ্রম ব্যায় করতে কিন্তু কোন কিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি আধ্যাত্নিক ও বাউল গানের দীক্ষা লাভ করেছেন কামাল উদ্দীন, সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশ এর কাছ থেকে। তিনি শরীয়তী, মারফতি, নবুয়ত, বেলায়া সহ সবধরনের বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন।

x