Skip to content

শান্তিপূর্ণ ভোটে সিইসির স্বস্তি

নির্বাচন কমিশন থেকে: শান্তিপূর্ণ ভোটে স্বস্তি প্রকাশ করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

বুধবার চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৪০ জেলার ৯৭ উপজেলার ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে এ স্বস্তি প্রকাশ করেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে, এখন চলছে গণনার কাজ। গণনা শেষে ভোটের হার জানা যাবে। আনুমাণিকভাবে ভোটের হার বলা ঠিক হবে না।

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এ নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।

সিইসি জানান, নির্বাচন সকাল ৮টা থেকে একটানা ৪টা পযর্ন্ত চলেছে। প্রথম পর্যায়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোট হলো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা পরিষদের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সিইসি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জানেন এটা একটা নির্দলীয় নির্বাচন। গতবারের মতো এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। অনেকে আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় আমাদের কাছে সবাই নির্দলীয় প্রার্থী। আমাদের কাছে কেউ রাজনৈতিক দলের সমর্থিত নন।

তিনি বলেন, সকালে ভোটকেন্দ্রে ভোটার কম ছিলেন। দুপুরেও কম ছিল। তবে বিকেলে ভোটার উপস্থিতি বেশি হয়েছে।

তিনি জানান, কতো শতাংশ ভোট হয়েছে এখনই তা বলা যাবে না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। প্রার্থীর মুখ দেখে নয় আইন অনুযায়ী কাজ করেছি।

সিইসি বলেন, নির্বাচন অবাধ করতে নির্বাচনের আগেই সন্ত্রাসী আটক শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সেই ধর-পাকড়ের সংখ্যা এখনই সঠিকভাবে বলা যাবে না।

কিছু কেন্দ্রে নির্বাচন বন্ধ থাকা সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু জায়গায় ভোট বন্ধ হয়েছে। বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ কিছু ঝামেলা হয়েছে। তবে বন্ধ কেন্দ্রের মোট ভোট ফলাফলে ভূমিকা রাখলে ওইসব কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে।

ভোটের হার প্রসঙ্গে বলেন, এটা এমন কোনো স্ট্রেটকার্ট হিসাব না যে বলতেই হবে। স্থানীয়রা মুড়ি দেখে বলেন। আমরা ফ্যাক্স ও টেলিফোনে নেই না। আমরা লিখিত আকারে অফিসিয়াল ফর্মে ফলাফল দেবো। আমাদের কাছে আসলে দেবো। অনুমান করা ঠিক হবে না।

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, কোন দল কি অভিযোগ করলো তা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা দেখবো প্রাথীর অভিযোগ। কারণ, এটা দলীয় নির্বাচন নয়। তবে অভিযোগ প্রথমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দিতে হবে এবং এর পরেই ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, ভোটাররা ঠিকমতো কেন্দ্রে আসতে পেরেছেন কিনা, এটা আমরা দেখি, আজও সেটা দেখেছি।

সন্তুষ্টির প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমরা আমাদের কাজ সুচারুভাবে করেছি। এটা সন্তুষ্টির ব্যপার নয়। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সবাই বলতে পারে। কিন্তু এজেন্সি (গোয়েন্দা সংস্থা) আমাদের কাছে যে তথ্য দেয় এর ওপরে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনা করি।

দেশের ৪৮৭ উপজেলায় ছয় ধাপে নির্বাচনের প্রথম পর্ব ভোট শুরু হয়েছে বুধবার। এ পর্বে ৪০ জেলার ৯৭ উপজেলায় সকাল আটটা থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট শুরু হয়ে চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত।

ভোটগ্রহণ শেষে চলছে ভোট গণনা।

৯৭ উপজেলায় বুধবার ভোটের পর দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টির ভোট হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি। ৮৩ উপজেলায় ১৫ মার্চ ও ৯২ উপজেলায় ২৩ মার্চ ভোট হবে। পরে ৩১ মার্চ ও ৩ মে বাকিগুলোয় ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

x