Skip to content

সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় সবুজ মিয়া নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন ও আনোয়ার হোসেন নামে এক জনে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড দিয়েছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ।

এর মধ্যে সবুজ মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের এবং আনোয়ারকে ৫ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে আরো ২ মাসে বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান এ দন্ডাদেশ দেন ।

সবুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার খালেশাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরনে জানা যায়, দীর্ঘদিনধরে ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার খালেমাকান্দা গ্রামের খোরশেদ মিয়া ও সবুজ মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ১৯৯৯ সালের ৬ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে মধ্যনগর বাজারে যাবার পথে পার্শবর্তী নোয়াগাও গ্রামের পাশে খোরমেদের ছোট ভাই আজিজকে চড়থাপ্পর মারে সবুজ ও আনোয়ার ।

এ খবর শুনে খোরশেদ এগিয়ে গেলে সবুজ ও তার লোক জনের সঙ্গে খোরশেদ মিয়ার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খোরশেদ ও সবুজের লোকজনে মধ্যে সংঘর্ষবাধে। সংঘর্ষে সবুজের হাতে থাকা সুলফি দিয়ে খোরশেদদের পিঠে ঘা দিলে খোরশেদ মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান।
এ ঘটনায় খোরশেদের ছোট ভাই মোকশেদ আলী মধ্যনগর থানায় ওই দিনই সবুজকে এক নম্বর আসামী করে একই গ্রামের আনোয়ার, সুরুজ আলী, নূরু মিয়া, হারেশ আলী, নিয়াজ আলী, কপিল মিয়া, হাজেরা খাতুন, রইছ মিয়া, আলী হোসেন, আব্দুল বারেক ও সিদ্দিক আলীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামরা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে সবুজ, আনোয়ার, সুরুজ আলী, নূরু মিয়া, হারেশ আলী, নিয়াজ আলী, কপিল মিয়া, হাজেরা খাতুন, রইছ মিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে।

স্বাক্ষী প্রমাণ শেষে আদালত আসামি সবুজ মিয়াকে দন্ড বিধির ৩০২ ধারায়-যাবতজীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।

অপরদিকে আসামী আনোয়ারকে ২ বছরের সশ্রমকারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।

আসামী সুরুজ আলী, নূরু মিয়া, হারেশ আলী, নিয়াজ আলী, কপিল মিয়া, হাজেরা খাতুন, রইছ মিয়া স্বাক্ষ্য প্রমানে দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় বেখসুর খালাস প্রদান করা হয়। এর মধ্যে মামলা চলাকালি সময়ে আসামী নিয়াজ আলী মারা যান।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফারুক আহমদ।

x