Skip to content

৪৮ শহীদকে শ্রদ্ধা জানানোর কেউ নেই

ভাষা আন্দোলনেই সূচিত হয়েছিল বাঙালির স্বাধীনতা স্পৃহা। সেই আকাঙ্ক্ষারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে।

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই দেশ। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে যেমন স্মরণ করা হয় ভাষা শহীদদের তেমনি ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার বীর সেনাদের। এর মাঝেও কালের বিবর্তনে ঢাকা পড়ে গেছে অনেক শহীদের স্মৃতি।

বিস্মৃতির অতলে তেমনই হারিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ডুলুরা গ্রামে ঘুমিয়ে থাকা ৪৮ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭১ সালে মোহাম্মদ মন্তাজ মিয়া, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মোহাম্মদ রহমত বখত, মোহাম্মদ জবান আলী, মোহাম্মদ তাহের আলী, মোহাম্মদ আব্দুল হক, মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া, মোহাম্মদ ওয়াহিদ আলী, মোহাম্মদ সাজু মিয়া, মোহাম্মদ ধনু মিয়া, মোহাম্মদ ফজলুল হক, মোহাম্মদ সামছুল ইসলাম, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, মোহাম্মদ মরম আলী, মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ কেন্তু মিয়া, মোহাম্মদ মোস্তফা মিয়া, মোহাম্মদ সাত্তার মিয়া, মোহাম্মদ আজমান আলী, মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ সমছু মিয়া, মোহাম্মদ তারা মিয়া, মোহাম্মদ আবেদ আলী, মোহাম্মদ আতর আলী, মোহাম্মদ লাল মিয়া, মোহাম্মদ চান্দু মিয়া, মোহাম্মদ সমুজ আলী, মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, মোহাম্মদ দান মিয়া, মোহাম্মদ মন্নাফ মিয়া, মোহাম্মদ রহিম মিয়া, মোহাম্মদ আলী আহমদ, মোহাম্মদ ছিদ্দিক মিয়া, এমবি ছিদ্দিক, মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, মোহাম্মদ রহমত আলী, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ খান, মোহাম্মদ আব্দুল ছিদ্দিক, মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, যোগেন্দু দাস, শ্রীকান্ত বাবু, হরলাল দাস, অধর দাস, অরবিন্দু রায় এবং কোবিন্দ্র নাথ বাংলা ভাষা, বাংলাদেশের দাবিতে ঢেলে দিয়েছিলেন বুকের তাজা রক্ত।

এর সঙ্গে জাড়িয়ে আছে আরও একটি নাম মধুমিয়া। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির জীবনে যখন নেমে এসেছিল মৃত্যুর ভয়াল থাবা, পথে ঘাটে পরেছিল নিষ্প্রাণ দেহ। সেসব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থ করার তাগিদ অনুভব করেছিলেন আনছার কমান্ডার মধুমিয়া। পাশাপাশি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবায় নিজে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। নিজ গ্রাম ডলুরায় সরকারি এক একর ৬০ শতাংশ জমিতে সমাধিস্থ করেন শহীদদের।

অস্ত্র চালনোর প্রশিক্ষণ থাকায় সামনা-সামনি মোকাবেলা করেন পাকহানাদার বাহিনীকে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বালাটে পরিবার রেখে এসে ঝাঁপিয়ে পরেন দেশ রক্ষায়। যুদ্ধ শেষে পরিবার ফিরিয়ে আনেন ভারতের বালাট থেকে। পরবর্তীতে মধুমিয়া নিজেই দেখা-শোনা করতেন এই সমাধিস্থল।

যে কারণে ২০০৪ সালের ১৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা মধুমিয়া প্যারালাইসিস অবস্থায় মারা গেলে ৪৮ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পাশে সমাধিস্থ করা হয় তাকে।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারিতে যখন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে, তখনও অবহেলিতই রয়ে গেছে সুনামগঞ্জ স্বাধীনতা সংগ্রামের ৪৮ শহীদের স্মৃতি।

মুক্তি সংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্টের নিয়োগকৃত স্থানীয় খোকা মিয়া মাসিক মাত্র পাঁচশ’ টাকা সম্মানীর বিনিময়ে ২০০১ সাল থেকে সমাধিস্থলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন আর ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ এক সুতোয় গাঁথা। একটিকে বাদ দিয়ে যেমন আরেকটিকে মূল্যায়ন করা যাবে না। তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের ভুলে ২১ ফেব্রুয়ারিতে কেবল ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেই হবে না।

তিনি জানান, ২৫ মার্চ এবং ২৫ ডিসেম্বর ছাড়া সরকারিভাবে কোনো আয়োজন করা হয় না। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ার কারণে মূলত এই জায়গার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কম। সুনামগঞ্জের বাইরে থেকে কেউ এলে তারাই কেবল বেড়ানোর অংশ হিসেবে এখানে আসেন। এছাড়াও বাউন্ডারি না থাকায় কাঁটা তারের বেড়া টপকে গবাদি পশু ঢুকে সমাধি ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে।

শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাউন্ডারি করলেই সমাধিস্থলে অনেকেই আসবেন আশা করা যায়।

x