Skip to content

পুলিশের মোবাইলেই কথা বলছিল জঙ্গিরা!

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মোজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ছিনতাইয়ের ঘটনা নিরাপত্তা দুর্বলতা না অন্য কোনো কারণে ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই আসামিরা গ্রেফতার হবে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে এসেছে, ঠিক হামলার সময়েই পুলিশের মোবাইল ফোন থেকেই কারো সঙ্গে কথা বলছিলো আসামিরা। আসামিদের কাছে পুলিশের মোবাইল ফোন ছিল।

রোববার সকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে ময়মনসিংয়ের আদালতে নেওয়ার পথে ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা চালানো হয়। এ সময় জেএমবি সদস্য সালাউদ্দিন সালেহীন, জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান এবং রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশ কনস্টেবল আতিকুল ইসলাম (৩০), আহত হন আরও দুজন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনির্ধারিত আলোচনায় জঙ্গি ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গটি উঠে আসে। দীর্ঘ দিন পর হঠাৎ করেই জেএমবির নাশকতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী আলোচনায় অংশ নেন।

একজন মন্ত্রী বৈঠকে বলেন, জেএমবির মতো স্পর্শকাতর একটি সংগঠনের তিন আসামিকে মাত্র চারজন পুলিশ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ছোট করে দেখার নয়।

মন্ত্রিসভার ওই সদস্যকে উদ্ধৃত করে আরেক মন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় পুলিশের মোবাইল তাদের (আসামি) কাছে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গিরা তাদের সহযোগীদের নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানিয়েছিলেন।

এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

আসামি ছিনতাইয়ের সময় এক পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় বৈঠকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, নিরাপত্তা দুর্বলতা নাকি অন্য কোন কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ছিনতাই হওয়া তিন আসামির মধ্যে রাকিবুল হাসান ছিনতাইয়ের দিন রোববারই গ্রেফতার হন। সোমবার ভোরে আসামি ধরতে গিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান রাকিব হাসান।

ছিনতাই হওয়া অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের অগ্রগতি রয়েছে বলেও আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভায়।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, চারদিকে এলার্ট করে দেওয়া হয়েছে। জানতে পেরেছি অল্প সময়ের মধ্যে তারা ধরা পড়বে।

ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতর দুই আসামিকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

মন্ত্রিসভার একজন সদস্য জানান, আসামিদের পালানোর কোন পথ নেই। তারা ধরা পড়বেন বলেও আশা প্রকাশ করেন ওই মন্ত্রী।

জাকারিয়া ও রাসেল ১০ দিনের রিমান্ডে :

ময়মনসিংহে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা চালিয়ে জেএমবির দণ্ডপ্রাপ্ত তিন জঙ্গিকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া জাকারিয়া ও রাসেলের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া আহমেদ এ আদেশ দেন।

এর আগে রোববার জঙ্গিদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাসসহ চালক জাকারিয়াকে আটক করে স্থানীয়রা। জাকারিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এরপর সখীপুর-ঢাকা সড়কের তক্তারচালা বাজার থেকে রাসেল নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। রাছেলের বাড়ি গাড়ীপুরে।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, পুলিশ অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা দুইটি মামলায় প্রত্যেকের ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

বিকেল ৩টার দিকে জাকারিয়া ও রাসেলকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল জেলা আদালতে হাজির করা হয়।

দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন, সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক এবং এসআই আল আমিন।

x