Skip to content

স্পট ফিক্সিং : শিহাব ছাড়া বাকিরা নির্দোষ!

বাংলাদেশ প্রিমিয়াল লিগের (বিপিএল) বহুল আলোচিত স্পট ফিক্সিংয়ের শুনানি শেষে আদেশ জারি করেছে বিসিবি গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। দোষীদের মধ্যে যারা আপিল করেছিলেন তাদের মধ্যে বিপিএলের দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটসের মালিক শিহাব জিহান চৌধুরী ছাড়া; বাকিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে যারা দোষ স্বীকার করেছেন তাদের ব্যাপারটি এখনও নিস্পত্তি করেনি ট্রাইব্যুনাল। আদেশ দেওয়া হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেনি।

শিহাব জিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাতে একটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে (২.১.১) চট্টগ্রামের ম্যাচে ফিক্সের অভিযোগ টাইব্যুনালে উঠেছিল। এতে তাকে দোষী বলে অভিহিত করেছে টাইব্যুনাল। কিন্তু বরিশাল ও ফ্রেন্ডস লাইফ টোয়েন্টি২০ ম্যাচে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ টাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়নি।

শিহাব ছাড়া বাকিদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তারা হলেন- সেলিম চৌধুরী, গৌরব রাউত, মোহাম্মদ রফিক, মোশারফ হোসেন রুবেল, মাহবুবুল আলম রবিন ও ড্যারেন স্টিভেন্স।

এ সময়ে ট্রাইব্যুনাল দুই দফায় নির্দোষ দাবিদারদের কাছ থেকে লিখিতভাবে নিজেদের সাফাইপত্র নিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সতর্কতার সঙ্গে অভিযোগপত্র এবং প্রদত্ত সাফাইপত্র বিবেচনা করে আদেশ দিয়েছে। আদেশপত্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশও করা হবে।

ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে আদেশ দিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিহাব জিসান চৌধুরীকে আগামীতে নির্ধারিত শুনানির তারিখে তাকে কিংবা তার প্রতিনিধিকে আদালতে হাজির হতে হবে। যদি তিনি নির্দিষ্ট তারিখে আদালতে উপস্থিত না হন; তা হলে তার অনুপস্থিতিতেই আদালতের বিচারকার্য শুনানি সম্পন্ন করা হবে।

যারা দোষ স্বীকার করেছেন তাদের বিষয়ে ২ সপ্তাহ পরে সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনাল। শিহাব চৌধুরী দোষী সাব্যস্ত হলেও তার শাস্তির বিষয়ে কোনো কিছু জানায়নি ট্রাইব্যুনাল। আর স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে মোহাম্মদ আশরাফুল, লুকারাচ্চি ও লু ভিনসেন্ট জড়িত থাকার কথা ট্রাইব্যুনালে স্বীকার করেছেন। ট্রাইব্যুনাল তাদের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের আদেশ শোনার পর সেলিম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি প্রথম থেকেই নিজেকে নির্দোষ বলে এসেছি। ভালো লাগছে তা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। আসলে এটা একটা গভীর চক্রান্ত। চক্রান্তকারীরা বিপিএল বন্ধ করার জন্যই এই ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করেছে।’ তার ছেলের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, ‘অচিরেই আমার ছেলে শিহাব জিসান চৌধুরীকে আমি নির্দোষ প্রমাণ করব।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই ওই আদেশের বিপক্ষে তার ছেলের হয়ে আপিল করবেন।

ক্রিকেটার মাহবুব আলম রবিন বলেছেন, ‘আমি আগেই জানতাম আমার ওপর আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। খুব কষ্ট লাগছে এই সময়ে আমাকে ওই ধরনের যাতনায় থাকতে হয়েছে। সব ভুলে আমি আবার খেলায় ফিরতে চাই।’

বুধবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী। মোহাম্মদ আশরাফুল, লুকারাচ্চি ও লু ভিনসেন্ট ইতোমধ্যেই দোষ স্বীকার করেছেন। বাকি অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। কিন্তু আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পাদন শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করেছে।

বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ৫ ক্রিকেটারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু)। যাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ করেছে আকসু তাদের মধ্যে প্রথম দফা আশরাফুল ছাড়া কেউই তাদের দোষ স্বীকার করেননি। তবে শুনানির কাঠগড়ায় লুকারাচ্চি ও ভিনসেন্ট দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন।

এদিকে আইসিসি ও বিসিবি বিশেষ টাইব্যুনালের শুনানির পর কোনো ধরনের মন্তব্য না করলেও হতাশা ব্যক্ত করেছে। যদিও বিবৃতিতে উভয় সংস্থাই বলেছে, শুনানির পুরো লিখিত কপি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আইসিসি ও বিসিবি।

x