Skip to content

‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে’

দ্বিতীয় ধাপের ১১৫ উপজেলা নির্বাচনে হামলা, ভাঙচুর, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনিটরিং ছিল ঢিলেঢালা। অনেক জায়গা থেকে ভাঙচুর-কেন্দ্র দখলের রিপোর্ট পেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন। সারাদিন দফায় দফায় বৈঠক করে দায় সেরেছে কমিশন।

এ নির্বাচনে দুই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। প্রায় সব উপজেলায় কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, সংঘর্ষ হয়েছে। একটি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তা ছাড়া ৪ উপজেলার ২১টি ভোটকেন্দ্রেও ভোট স্থগিত করে ইসি।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম দাবি করে বলেছেন, কোথাও ভোট কারচুপি হয়নি। ইসির কাছে ভোট কারচুপি বা কেন্দ্র দখলের কোনো তথ্য নেই।

বিএনপি’র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এটি একটি নির্দলীয় নির্বাচন। আমরা প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবেই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। আর তারাও সেভাবেই কাজ করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া সবখানেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নোয়াখালী সদরের ভোট স্থাগিত করা হয়েছে। তা ছাড়া ৪ উপজেলায় ২১ কেন্দ্রও বন্ধ করা হয়েছে।

কারচুপির বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক ভোট কারচুপির বিষয়টি সঠিক নয়। এধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।

দেশের বিভিন্ন উপজেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার ফ্যাক্সযোগে বিএনপি’র পক্ষ থেকে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এ অভিযোগপত্র পাঠানো হয়।

রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ রয়েছে। তথ্য ভিত্তিক পুর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি ইসি।

অনেক স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে করা হলেও পুলিশ ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন বয়কটকারী প্রার্থীরা।

দেশের ৪৮৭ উপজেলায় ছয় ধাপে নির্বাচনের প্রথম পর্ব ভোট শুরু হয় বুধবার। এ পর্বে ৪০ জেলার ৯৭ উপজেলায় ভোট হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় পর্বে ১১৫ উপজেলায় সকাল আটটা থেকে ভোট শুরু হয়ে ৪ টায় শেষ হয়।

৮৩ উপজেলায় ১৫ মার্চ ও ৯২ উপজেলায় ২৩ মার্চ ভোট হবে এবং পঞ্চমপর্বে ৩১ মার্চ ভোট হবে।

x