Skip to content

বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল তারুণ্যের বসন্ত উৎসব

সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কবিতা, গান, আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো মদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারুণ্যের বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শহরের তরুণেরা হলুদ টি-শার্ট পরে এসেছিল ‘মাদক-সন্ত্রাসকে না বলুন’ শ্লোগান নিয়ে।

শুনিবার সন্ধ্যা ৭টায় জুবিলীর মাঠে অরাজনৈতিক সংগঠন আড্ডা, একটিভ সিটিজেন্স ইয়ূথ লিডার্স ও সাহিত্যের ছোট কাগজ চৈতন্য এ উৎসবের আয়োজন করে।

উৎসবের মধ্যমণি হয়ে তুমুল করতালির মধ্যে আসন অলংকৃত করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত কবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

অনুষ্ঠানের মধ্যমনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যাতিক্রমী এ বসন্ত উৎসব দেখে আমি মুগ্ধ ও অভিভুত। তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস আমাদের সমাজকে একদম ধ্বংস করে দিচ্ছে। সমাজের এসব ভয়াবহ ব্যধিকে দূর করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। আমি আশা করি তরুণদের এ আন্দোলন সফল হবে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের এ সংগ্রাম চলবেই। জানি আমরা জয়ী হবই।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আমি সুনামগঞ্জকে ভালবাসি। এখনকার প্রতি ইঞ্চি জমিকে আমি চিনি। আরও একটি মানুষকে আমি ভালবাসি, সে হচ্ছে পীর হাবিব। তার আহবানে তরুণদের মেলা এসেছি। তিনি বলেন, আমি তরুণ নই বৃদ্ধ। তবে বসন্তের বয়স নেই। বসন্ত অসীম।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সুনামগঞ্জর হাওরের সঙ্গে, সুনামগঞ্জের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমি সুনামগঞ্জকে জেলা করেছিলাম। আমি ও মেজর ইকবাল মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কোথায় কোন অফিস হবে, কোথায় আদালত হবে। সুনামগঞ্জ আমার সন্তান। দেখতে এসেছি আমার সন্তান কত বড় হয়েছ।

অনুষ্ঠানে বরেণ্য অতিথি হয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক সংসদ সদস্য ও ডিফারেন্ট নিউজ সম্পাদক গোলাম মওলা রনি, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান।

উৎসাবে তারুণ্যের হয়ে কথা বলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রাহমান মিসবাহ।

তরুণদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে।

অতিথিদের মধ্যে মঞ্চে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানী চৌধুরী, চলচিত্র পরিচালক বুলবুল জিলানী চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারুণ্যের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। কারণ মাদক এবং সন্ত্রাস সমাজকে পিছিয়ে দেয়। পাশাপাশি যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ আইনজীবী ও গবেষক আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন।

রাজিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় উৎসবের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন ও বুরহান উদ্দিন।

আগামীর স্বপ্ন-ভাবনা নিয়ে কথা বলেন, তাওসিফ মোনাওয়ার, রূপকথা রূপ ও সুস্মিতা রায়।

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ ও কবিগুরুর ‘আহা আজি এ বসন্তে’ গানের মধ্যদিয়ে বর্ণাঢ্য উৎসবের সূচনা হয়।

শুরুতেই বসন্তের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।
বসন্তের কবিতা আবৃত্তি করেন, রুনা লেইছ, শহিদুল চৌধুরী সোহাগ, অদিতি দে তিথী।

উৎসবের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক বিশিষ্ট সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান ঘোষণা দেন, শহরের তরুণদের সকল অসুস্থ ও অশুভ শক্তির আগ্রাসন থেকে মুক্ত রেখে তাদের মেধা, মননশীলতা ও সৃষ্টিশীলতা বিকাশে প্রতিবছর এই বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বর্ষায় বর্ষাবরণের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তরুণদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশ করেন, খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী পলি সায়ন্তী, প্রিয়াংকা ও বাপ্পি এবং স্থানীয় শিল্পীরা।

x