Skip to content

১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেবে ভারত

বাংলাদেশকে নিকটতম ও পরীক্ষিত বন্ধু আখ্যা দিয়ে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি এই আশ্বাস দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ।

নেপিডোর মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মনমোহন সিং ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে শিগগিরই ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। খবর ইউএনবির।

মনমোহন সিং বলেন, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান যৌথভাবে জলবিদ্যুকেন্দ্র স্থাপন করতে পারে। এতে এ অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের সংকট নিরসন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

এদিকে, মনমোহন-শেখ হাসিনা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ বৈঠকে দুদেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে সাধারণ সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন।

শাকিল বলেন, টেকসই ও ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক প্রবণতা এ অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটাবে বলে মত দিয়েছেন মনমোহন সিং। দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর উন্নয়নসহ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করায় মনমোহন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলের প্রশংসা করেন। এ সময় গত নির্বাচনে দলীয়ভাবে জয়ী হওয়ায় এবং তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী জানান, বৈঠকে শেখ হাসিনা সীমান্ত চুক্তির বিল পার্লামেন্টে উত্থাপন করায় মনমোহনকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী আশা করছেন, সীমান্ত বিলটি লোকসভায় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ৪০ বছরের সমস্যা নিরসন হবে।

তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ ক্ষেত্রে তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন। দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও সন্ত্রাসকে এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সরকার এ সমস্যাগুলো একত্রে মোকাবিলায় কাজ করছে। এ সময় সন্ত্রাসমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চান বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা। এ লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন।

x