Skip to content

রেকর্ড রানেও বাংলাদেশের কাছে অধরাই থাকল জয়

হাতের নাগালের ম্যাচ হেরে বসল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের আক্ষেপ থেকে থেকে মুশফিক বাহিনীর। মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন উইকেটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

এর আগে গত এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ টি ম্যাচে শেষ পযন্ত লড়াই করে পরাজয়ের স্বাদ নেয় বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ২১ রানে এবং ফাইনালে ২ রানে হারে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৩২৬ রান করে বাংলাদেশ। একদিনের ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর।

এর আগে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩২০ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান ১ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয় নিশ্চিত করে।

৩২৭ রানের লক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে মোহাম্মদ হাফিজ ও আহমেদ শেহজাদ উদ্ধোধনী জুটিতে ৯৭ রান যোগ করেন। এই জুটি ভাঙ্গেন মুমিনুল হক। ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে ৫২ রান করা হাফিজ লং অফে ইমরুলের তালুবন্দি হন।

দলীয় রান ৯৭ থেকে ১০৫ পযন্ত যেতেই আরও ২ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। সাকিব সাজঘরে ফেরত পাঠান অধিনায়ক মিসবাহকে (৪) এবং শোয়েব মাকসুদকে ফেরত পাঠান (২) মুমিনুল হক।

চাপে পড়ে যাওয়া পাকিস্তান চতুর্থ উইকেট ঘুরে দাড়ায়। পাকিস্তানের ত্রাতা হয়ে উঠেন আহমেদ শেহজাদ ও ফাওয়াদ আলম। এই জুটি ৯৪ বলে ১০৫ রান করেন।

এ সময়ে আহমেদ শেহজাদ ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক তুলে নেন। অবশ্য শতকের পর ইনিংসটিকে বড় করতে পারেনি। রাজ্জাকের করা ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি। ১২৩ বলে ১০৩ রানের ইনিংসটি সেখানেই থেমে যায়।

ক্রিজে আসা আব্দুর রহমান এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ৮ রান করে মাহমুদুল্লাহ বলে লং অনে জিয়াউর রহমানের তালুবন্দি হন তিনি।

ম্যাচে নাটকীয় মোড় নেয় তখনই। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ঘুড়িয়ে দিয়ে জয় এনে দেয়া আফ্রিদী ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিতে আফ্রিদী ২টি চার ও ৬টি ছয় হাকান।

হাফসেঞ্চুরির পর ৫১ রানে দুটি জীবন পান আফ্রিদী। সাকিবের করা ৪৬তম ওভারের শেষ বল মারতে গিয়ে বল মিস করেন আফ্রিদী। বল স্ট্যাম্পে লাগলেও বেল পড়েনি বলে আউট হননি আফ্রিদী। পরের ওভারেই আল-আমিনের বলে ক্যাচ দেন এই পাক অলরাউন্ডার। কিন্তু শর্ট লেগে তার ক্যাচ ছাড়েন মুশফিক।

দুই সুযোগ পেয়ে আর ৭ রান যোগ করতেই আফিদ্রী সাকিবের সরাসরি থ্রোতে সাজঘরে ফেরেন। ২ চার ও ৭ ছয়ে ৫৯ রান করেন তিনি।

আফিদ্রীর বিদায়ে পর ফাওয়াদ আলম ৭৪ রান রান আউট হন। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। উমর আকমাল ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৩২৬ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০০৮ সালে লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৮৫ রান করে বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন আনামুল হক বিজয় (১০০)। এ ছাড়া ইমরুল কায়েস ৫৯, মুমিনুল হক ৫১, মুশফিকুর রহিম ৫১ ও সাকিব আল হাসান ৪৪ রান করেন।

চতুর্থ উইকেটে সাকিব ও মুশফিুকর রহিম মাত্র ৩৪ বলে ৭৭ রান করেন। ৪০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ২০৫ রান। শেষ দশ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান করে টাইগাররা।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ম্যাচে ফিরেই ব্যাটিং কারিশমা দেখান সাকিব। মাত্র ১৬ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। ৬টি চার ও ২টি ছয় হাঁকান বাহাতি এই ব্যাটসম্যান। অপরপ্রান্তে অপরাজিত থাকা মুশফিক ৩৩ বলে ৮ চারে ৫১ রান করেন।

এর আগে ইনিংসের শুরু থেকেই ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। শুভর পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া ইমরুল, আনামুলকে সঙ্গে নিয়ে ১৮তম ওভারে শতরান পূর্ণ করেন । এ সময়ে অর্ধশতক তুলে নেন আনামুল হক বিজয়। ৫৫ বলে অর্ধশতক তুলে নেন আনামুল। এজন্য ৫টি চার ও ৩টি ছয় হাঁকান তিনি।

বাংলাদেশ শিবিরে প্রথম আঘাত করেন মোহাম্মদ তালহা। ২৮.৪ বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন ইমরুল। ৭৫ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। ৫টি চার ও ২ ছক্কা হাকান শুভর পরিবর্তে দলে জায়গা পাওয়া ইমরুল কায়েস।৬২ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় অর্ধশত রানের দেখা পান ইমরুল। এটি তার ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশত।

সতীর্থ ফিরে গেলেও অর্ধশতক হাঁকানো আনামুল শতকের দেখা পান। ১৩১ বলে ৬টি বাউন্ডারি ও ৪টি ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক তুলে নেন তিনি।

এর আগে ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক শতক হাঁকান আনামুল। ১২০ রান করেন তিনি। অবশ্য শতকের পর ইনিংসকে বড় করতে পারেননি তিনি। সাঈদ আজমলের বলে শেহজাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে শতরানেই তার ইনিংসটি থেমে যায়।

ইমরুল ও আনামুলের বিদায়ে পর মুমিনুল হক রানের চাকা সচল রাখেন। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক মুশফিকের সাথে মাত্র ৩০ বলে ৪৫ রান করেন মুমিনুল। সাঈদ আজমলের বলে ফিরে যাবার আগে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতকও তুলে নেন তিনি। ৪৭ বলে ৬টি চারে ৫১ রান করেন বাহাতি এই টপ অর্ডার।

x