Skip to content

সাংসদ রতনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ!

আসন্ন ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সমর্থিত এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন, এলাকায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, ভোটারদের হুমকি দেয়া, অন্যসব প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের প্রচারণা কাজে বাঁধা, ভোট কেন্দ্র দখল করার পায়তারাসহ বিস্তর অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান পদের কয়েকজন প্রার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটায় ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীদের অবগতির জন্য আচরণ বিধি ও আইন শৃঙ্খলা সম্পর্কিত এক বিশেষ সভায় চেয়ারম্যান পদের আওয়ামীলীগের কয়েকজন প্রার্থী স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের উপস্থিতিতে সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সভায় সাংসদ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম আহমেদ মুরাদকে আওয়ামীলীগ দলের সমর্থিত প্রার্থী বলায় এ সময় আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মধ্যে হৈ-চৈ শুরু হয়। পরে আয়োজিত সভার সভাপতির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় ।

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ব্ক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সুনামগঞ্জ জেলা রিটানিং অফিসার দেবজিত সিংহ, জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আউয়াল, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম আহমেদ বিলকিস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দৃুল মোতালিব খান, চামরদানী ইউ.পি চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না প্রমুখ ।

মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আউয়াল বলেন, সাংসদ আচরণ বিধি না মেনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করছেন। এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের একক কোনো প্রার্থী নেই। সাংসদ তাঁর পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট আনতে তিনি এলাকার মানুষদের নানারকম হুমকি ও কেন্দ্র দখল করে চেয়ারম্যান পদে তাঁর মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার পায়তারা করছেন। এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি দাবি জানান।

ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম আহমেদ বিলকিস বলেন, এম.পি সাহেব আমার কর্মী সমর্থকদেরকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল দেওয়ার তাঁর পছন্দের প্রার্থী শামীম আহমেদ মুরাদকে বিজয়ী করতে আটঘাট বেধে নেমেছেন।তিনি নির্বাচনী আচরণবিধির কোনোরকম তোয়াক্কা করছেন না। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্টু ও নিরপেক্ষ হবে। ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিকে পারেন এ ব্যাপারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবজিত সিংহ বলেন, আচরণ বিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যেকোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থিত কোনো লোক নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করলে ও এ নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, আমি কোনো রকম নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছিনা। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এলাকার সকল মানুষকে নিয়ে নির্বাচন যাতে সুষ্টু ও নিরপেক্ষ হয় এ জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

x