Skip to content

‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’য় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী

আগামী ২৬ মার্চ সমস্বরে জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম সংযোজনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে রাজধানী ঢাকার ৪৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার ব্যাপারে গত ১৩ মার্চ শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতীয় সংগীতের এ রেকর্ডে রাজধানীর ৪৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ হাজার শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক অধিশাখার যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এ কমিটি শিক্ষার্থীদের সংগীতানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সার্বিক বিষয়টি দেখাশোনা করবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৮ম ও তদুর্ধ্ব বয়সী ১৫ হাজার এবং সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৫ হাজার মিলিয়ে মোট ৬০ হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘ল‍াখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’য় অংশ নিয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে ‘গিনেস বুকে’ রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।

সরকারি এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া মিলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, রাজধানীর ৪৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই যোগ দিচ্ছে ৬০ হাজার শিক্ষার্থী, এদের সবাই সর্বনিম্ন অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠান প্রতি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে ওইসব শিক্ষার্থীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে যাতায়াতের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও সম্পন্ন করেছে।

গঠিত কমিটি গত কয়েকদিন ধরে স্কুল ও কলেজগুলিতে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে জাতীয় সংগীত গাওয়ার প্রশিক্ষণ তত্ত্বাবধান করছে। প্রাণের এই সংগীতটি সবার মুখস্থ থাকলেও নতুন করে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে ফের মুখস্থ করানো হচ্ছে।

‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ কর্তৃপক্ষের শর্তাদি বিবেচনায় নিয়ে একইসঙ্গে একইসময়ে একই সুরে গাওয়া হচ্ছে সংগীতটি।

কমিটির একজন সদস্য জানান, সেনাবাহিনীর জাতীয় সংগীতের একটি সিডি সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে। ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণেচ্ছুদের দৈনিক রিহার্সেল (অনুশীলন) করানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেখানে মিলিত হবে সেস্থানগুলো হচ্ছে- সামরিক জাদুঘর, চন্দ্রিমা উদ্যান, বাণিজ্য মেলার মাঠ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও শ্যামলী মাঠ। তবে, কোন প্রতিষ্ঠান কোথায় জড়ো হবে তা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. দিলারা হাফিজ জানান, তার প্রতিষ্ঠানের সাব-ভেন্যু করা হয়েছে সামরিক জাদুঘর। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শিক্ষার্থীদের সেখানে পাঠানো শুরু হবে। এরপর সেখান থেকে সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে মূল ভেন্যুতে প্রবেশ করবে শিক্ষার্থীরা।

তার শিক্ষার্থীদের বহনের জন্য দুইশ’ বাসের প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সর্বাধিক গণজমায়েতের মাধ্যমে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে।

x