Skip to content

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আজ স্বাধীনতা দিবস।
এ জাতির মুক্তির পথের যাত্রার সূচনা হয়েছিলো এই দিনে।
সেই বর্বরোচিত হামলা,বাঙ্গালীর নিজেদের প্রাপ‌্য অধিকার আদায়ের জন্য গর্জে উঠা এই দিনেই।

এই দিনে জাতি হাতে তুলে নিয়েছিলো অস্ত্র। দেশকে স্বাধীন করার যে তীব্র নেশা, স্বাধীন একটি দেশ পাওয়ার যে আকাঙ্খা, তার জন্য এ দেশের মানুষ জীবন বিপন্ন হতে পারার শঙ্কা নিয়েও নেমে পড়েছিলো যুদ্ধে।

দীর্ঘ নয়টি মাস পর ধরা দেয় সেই স্বাধীনতা, আমাদের স্বাধীনতা!

আজ সরকারি ছুটি। স্বাধীনতার আনন্দে গোটা দেশ মেতে উঠবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে দেশবাসীকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে দেয়া সে ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু শত্রু সেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার জন্য দেশবাসীকে নির্দেশ দেন। তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেস থেকে সে বার্তা ছড়িয়ে দেয়া হয় দেশের সর্বত্র।

২৭ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তী সময়ে সেনাপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি) বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার আরেকটি ঘোষণা পাঠ করেন।

১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার নিভৃত এক আমবাগানে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী সরকার। এ আমবাগানকে পরে ‘মুজিবনগর’ নামকরণ করে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত এ বিপ্লবী সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় হানাদার বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ৩০ লাখ মানুষের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

x