Skip to content

‘মুক্তি এনেছি অন্য দেশের গোলামির জন্য নয়’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
ছাত্রাবস্থায়ই সমাজতন্ত্রের স্বপ্নে যোগ দেন ছাত্র ইউনিয়নে। মাস্টার্স পরীক্ষা চলাকালে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। সারাদেশে গেরিলা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বাধীন বাংলার প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন সেলিম। সম্প্রতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন দেশের সফলতা-ব্যর্থতা, সমসাময়িক রাজনীতি, বামদলগুলোর অবস্থানসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন এক সাক্ষাৎকারে।

-> মুক্তিযুদ্ধের শুরু কীভাবে হয়েছিল বা আপনারা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কীভাবে?

-> আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা কেবল ১৯৭১ এর মার্চ মাসে শুরু হয়নি। কেবল মার্চের একটি নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের সূচনা নয়। বলা যায়, এর স্ফূরণ ঘটে ১৯৪৮ সালে। সম্ভবত এটাও সঠিক নয়। মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ শাসন থেকেই। যে সংগ্রামে শহীদ হন ক্ষুদিরাম বসু, মাস্টার দা সূর্যসেন। এ সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার সময় এ অংশটুকু তুলে ধরা হয় না। আমার বিবেচনায় এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসের বিকৃতি। এরপর ১৯৪৮ সাল থেকেই বাঙালিরা ভাষার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পর্ব বিবেচনায় নিতে হবে। পাকিস্তান যে শুধুমাত্র মতাদর্শগতভাবে প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র ছিল তা না, পাঞ্জাবের একচেটিয়া ধনিক শ্রেণীর অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং দুই দশকের নির্যাতনের পরিণতিই হলো আইয়ুব-মোনায়েম চক্রের পতন।

১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর পাকিস্তানিরা যখন বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করছিল না তখনই তো বাঙালি বুঝতে পারে ওদের সঙ্গে আর থাকা যাবে না। আন্দোলন শুরু করে বাঙালিরা। আমি তখন মাস্টার্স পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। সম্ভবত একটি পরীক্ষা বাকি ছিল। আমি বই রেখে যোগ দিই আন্দোলনে। ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম ।

সত্য কথা বলতে কী সে সময় মুক্তিযুদ্ধের দুটি ধারা ছিল। একটি আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অন্যটি ছিল কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন ও গোপন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে। আমরা তো মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্ত্র হাতে আমাদের কর্মীদের নিয়ে ট্রেনিং শুরু করি। যে ছবি সে সময় পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। আমরা প্রতিদিন শহীদ মিনারে জনগণকে ডেকে নিয়ে আসতাম। জনগণকে নির্দেশনা দিতাম। একদিকে চলত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিশ্লেষণ, অন্যদিকে চলত যুদ্ধের সশস্ত্র প্রস্তুতি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর আমরা মিত্রদেশ ভারতে আশ্রয় নিই। আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ করে ভারত-সোভিয়েত চুক্তি বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

আমরা দীর্ঘমেয়াদী গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এপ্রিল-মে মাসে আমাদের প্রথম ব্যাচের ট্রেনিং শুরু হয়। আমি সেই ব্যাচেই ছিলাম। এরপর ছোট ছোট টিমে আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ি। আমাদের ২০/২৫ হাজার কর্মী ট্রেনিংয়ের পর্যায়ে ছিল। কিছুদিন পর মনে হলো, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এরপর থেকেই আমরা সম্মুখ যুদ্ধ শুরু করি। এতে আমাদের অনেক বন্ধুও শহীদ হোন। বেতিয়ারায় শহীদ হন আজাদ, মুনিরসহ ৯ জন। এ জন্য যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করে আমরা ঢাকার দিকে অগ্রসর হই। চাঁদপুরে মেঘনা দিয়ে ঢাকায় এসে কেরানীগঞ্জের জুরাইনে ক্যাম্প স্থাপন করি। সময়টা ছিল নভেম্বর শেষ কিংবা ডিসেম্বরের শুরু। তারপর আমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গজারিয়া ও কেরানীগঞ্জ দিয়ে ঢাকায় মার্চ করা শুরু করি।

এ সময়ই আমরা পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের খবর রেডিওতে শুনি। এরপর আমরা ঢাকায় প্রবেশ করে শহীদ মিনারে জমায়েত হই। সে সময় গেরিলাদের অস্ত্রহাতে একটি জনপ্রিয় ছবি বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসলে আমরা অস্ত্রসমর্পণ করি।

-> স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছেন এ নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে বিতর্ক রয়ে গেছে। ইতিহাসের বাস্তবতায় এ বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

-> আগেই বলেছি, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। ৬ দফা, ১১ দফার ঐতিহাসিক পরিণতিই হলো মুক্তিযুদ্ধ। আর ২৬ মার্চ ছিল এর ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাই কে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল, যারা এ নিয়ে বিতর্ক করতে চায় আমার কাছে এটা অবান্তর মনে হয়। ১ মার্চ থেকেই ছাত্রসমাজ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার একমাত্র অধিকার ছিল বঙ্গবন্ধুর। কেননা তিনি জনগণের একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। এখানে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল এক মাত্রার, জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল আরেক মাত্রার। তবে আমরা শুধু বঙ্গবন্ধু আর জিয়ার কথা বলি কিন্তু মওলানা ভাসানী, কমরেড মনি সিং, কমরেড ফরহাদ, কমরেড মোজাফফর আহমেদের কথা বলি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে গেলে উনাদের আলোচনায় রাখতে হবে। উনাদেরকে আলোচনায় না রাখাও এক ধরনের ইতিহাস বিকৃতি।

-> মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠন ও যোদ্ধা হিসেবে স্বাধীনতার ৪৩ বছরে আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি কতটুকু?

-> মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশাকে আমরা দুইভাগে ভাগ করতে পারি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের প্রত্যাশা ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আমাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানি আমলে জামায়াত আরও সহিংস হয়ে ওঠে। জামায়াতের সেই তাণ্ডব এখনও চলছে। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে আরেকটি দিক হলো আমরা পাকিস্তানি ব্যবস্থাকে নাকচ করে ভিন্নব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। সেটা পেরেছি, বাংলাদেশ পেয়েছি। বাংলাদেশের সংবিধানে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন গণতন্ত্র ঘোরতর বিপদে। ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে সরে গেছে সরকার। আওয়ামী লীগ তিনবার ক্ষমতায় আসলেও জিয়া ও এরশাদের করে যাওয়া প্রতিক্রিয়াশীল সংশোধনী তারা বহাল রেখেছে। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেনি। সাম্প্রদায়িকতা আরও বেড়েছে। জাতীয়তাবাদ বলতে তো আমাদের দেশের দুই দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি রাখার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। আমরা পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্তি ছিনিয়ে এনেছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশের গোলামি করার জন্য নয়। আমাদের একপক্ষ বলে বাঙালি অন্যপক্ষ বলে বাংলাদেশি। আসলে দুই পক্ষই মেড ইন আমেরিকান জাতীয়তাবাদ। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘আমি ঘাস খাব তারপরও আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা নেব না।’ আমরা পুঁজিবাদী বাংলাদেশের জন্য দেশ স্বাধীন করিনি আমরা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলাম। কিন্তু এখন সমাজতন্ত্র বাদ দিয়ে নয়া উদারনৈতিক লুটপাটের অর্থনীতি চালু হয়েছে। বাংলাদেশে এখন চলছে লুটপাটের রাজনীতি। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়-বাংলাদেশের অদৃশ্যমান অর্থনীতির ৮০ ভাগই কালো। অন্যদিকে দৃশ্যমান অর্থনীতির ১২ থেকে ১৩ আনাই মুষ্ঠিমেয় লোকের হাতে বন্দি। তাই দুই জোটের মধ্যে যে লড়াই চলছে তা তো আদর্শের লড়াই নয়, লড়াই চলছে লুটপাটের জন্য। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হাইজ্যাক হয়েছে। এটাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জোরালো। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

জামায়াত নিষিদ্ধের কর্মসূচি তো চলছে। কিন্তু সরকার নিষিদ্ধ করছে না। জামায়াত তো সামাজিক, রাজনৈতিকভাবে এমনিতেই নিষিদ্ধ দল। এখন দরকার আইনগতভাবে তাদের নিষিদ্ধ করা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী যখন আত্মসর্ম্পণ করে তখন আত্মসমর্পণ দলিলে লেখা ছিল, আমরা আমাদের সহযোগীসহ আত্মসমর্পণ করলাম। তাই বাংলাদেশের মাটিতে যদি পাকিস্তানিদের ক্যান্টনমেন্ট করার অধিকার না থাকে তাহলে পাকিস্তানের সহযোগী জামায়াতেরও রাজনীতি করার অধিকার নেই। তা ছাড়া সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ ধরনের সংগঠন তো এমনিতেই নিষিদ্ধ। তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে জামায়াত সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের নিষিদ্ধ করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। অথচ সরকার বলছে এটা আদালতে বিচারাধীন বিষয়। ট্রাইব্যুনাল তো বলেছে, কেবল ব্যক্তির নয় সংগঠনেরও বিচার হবে। আমরা সরকারের দুর্বলতার সমালোচনা করছি। মামলা চলা অবস্থায় তো হরকাতুল জিহাদ, জেএমবিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাহলে জামায়াতকে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না?

-> জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আপনারা কতটুকু সফল বলে মনে করেন?

-> দেশে এখন কালো টাকা আর জিন্দাবাদ-মুর্দাবাদের রাজনীতি চলছে। তাই বিকল্প শক্তি হিসেবে বামরাই এখন জনগণের আশা ভরসাস্থল। কারণ, জনগণ এখন বুঝে গেছে তাদের একদিকে আপদ অন্যদিকে বিপদ। জনগণ ফুটন্ত কড়াইয়ের যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য জ্বলন্ত চুলায় ঝাঁপ দেবে না। তবে এর পরিবর্তন রাতারাতি হবে না। আমাদের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হচ্ছে। সিলেটে আমার ওপর হামলা হয়েছে। বিভিন্ন সময় আমাদের ওপর পিপার স্প্রে ছোড়া হয়েছে। তবে সকল আন্দোলন সংগ্রামের সামনে থেকেছে বামরা। এখন এ সফলতাকে আত্মবিশ্বাস মনে করে আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের যে দুর্বলতা নেই তা না। আমরা বামরা এখনও দাড়ি, কমা, সেমিকোলন নিয়ে বিতর্ক করছি এটা ঠিক না। আসলে কথায় আছে, বামদের বুদ্ধি বেশি আক্কেল কম। তীক্ষ্ণবুদ্ধি দেখাতে গিয়ে নিজেদের ঐক্য হয় না। আমরা মনে করি, দেশের স্বার্থে সব বামদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে সকল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্য জরুরি। তা নাহলে দেশকে বাঁচান যাবে না। বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধৈর্য্যের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

-> বাম দলগুলোর প্রতি অভিযোগ জাতীয় ইস্যুতে তারা সবসময় এক হন না, বিভেদের রাজনৈতিক চর্চা করেন তারা। বামদের ভেতর এ অনৈক্যের কারণ কী বলে মনে করেন?

-> আমরা তো প্রতিক্রিয়াশীল সমাজে বাস করি। এর প্রভাব তো বামদের ওপরও আছে। প্রতিক্রিয়াশীলরা কখনোই বামদের ঐক্য চায় না। তবে ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

-> স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীর প্রতি আপনার আহ্বান কী?

বিএনপি তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। এখন মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মানুষের বোঝা উচিত গ্রামে জমি বর্গা দেওয়া যায়, নিজের স্বার্থকে বর্গা দেওয়া যায় না। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া না দিয়ে মাঠে যুদ্ধ না করতাম তাহলে দেশ কিন্তু স্বাধীন হতো না। নিজেরা জমি চাষ করেছি বলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। অন্যথায় হতো না। তাই দুই দলের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির ঐক্যই ২৬ মার্চের মর্মবাণী। সেই মর্মবাণীকে ধারণ করে দেশবাসীকে এগিয়ে যেতে হবে।

x