আগামী সপ্তাহে সংসদীয় কমিটি, সুযোগ পাচ্ছেন বঞ্চিতরা

দশম সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। এবারের কমিটিতে মন্ত্রিত্ব বঞ্চিতদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। নবম সংসদে যারা যে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তাদেরকে এবার ওই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেতে পারেন সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। পররাষ্ট্রতে দায়িত্ব পেতে পারেন ডা. দীপু মনি।

সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খান, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমিন, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী পেতে পারেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব।

এছাড়া সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীকে যে কোনো একটি কমিটির সভাপতি করা হতে পারে।

পুরোনোদের পাশাপশি এবার কমিটিতে অনেক নতুন মুখ দেখা যাবে সভাপতি পদে। নতুনদের মধ্যে এখন পর্যন্ত যাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে তারা হলেন- ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সিলেট-৪ আসনের সদস্য ইমরান আহমেদ, খুলনা-১ আসনের সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, পাবনা-৩ আসনের সদস্য মকবুল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা, কুমিল্লা-৯ আসনের সদস্য তাজুল ইসলাম, নেত্রকোনা-৪ আসনের সদস্য রেবেকা মমিন, বাগেরহাট-২ আসনের সদস্য মীর শওকত আলী বাদশা, সিলেট-৩ আসনের সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সদস্য একাব্বর হোসেন ও গাজীপুর-৪ আসনের সদস্য সিমিন হোসেন রিমি।

পুরনোদের মধ্যে আরো কিছু নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে যারা কমিটির সভাপতি পদে থাকবেন। এদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, আবদুল মতিন খসরু, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, দবিরুল ইসলাম, মো. ইসরাফিল আলম, এ কে এম রহমতউল্লাহ, খন্দকার আসাদুজ্জামান, জাহিদ আহসান রাসেল, কাজী কেরামত আলী, কামাল আহমেদ মজুমদার, মোজাম্মেল হোসেন ও র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, সংরক্ষিত আসনের জন্যই অপেক্ষা করা হচ্ছিল। এখন যেহেতু সেই ঝামেলা নাই তাই আগামী সপ্তাহেই প্রায় সব কমিটি গঠন হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে নতুন কমিটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলেই আগামী সপ্তাহের যে কোনো কার্য দিবসে এসব কমিটি গঠিত হয়ে যাবে।

নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছিল। সেবারই প্রথম বিরোধী দল থেকে কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। নবম সংসদে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে বিরোধী দল বিএনপির দুজন ও এলডিপির একজন সদস্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। আর সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির দুজন এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ থেকে একজন করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন থেকে একাধিক সদস্যকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হতে পারে।

নবম সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটি ও সংসদ কমিটিসহ মোট ৫১টি কমিটি ছিলো। গত পাঁচ বছরে নবম সংসদরে ৫১টি সংসদীয় কমিটি দুই হাজারেরও বেশি বৈঠকে বসে। এবারও তাই করা হবে। এরই মধ্যে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়। বাকীগুলো আগামী সপ্তাহেই গঠিত হবে। কারণ দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। নতুন করে অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো না হলে ৩ এপ্রিল সমাপ্তি হবে প্রথম অধিবেশনের। হিসাব অনুযায়ী চলতি অধিবেশন বাকী আর মাত্র ৫ কার্য দিবস। তাছাড়া এতোদিন সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের জন্য কমিটি গঠন পিছিয়ে ছিলো। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন শেষ হওয়ায় এখন শুধু কমিটির নাম প্রকাশ করা বাকী।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুয়ায়ী, কমিটির খসড়া চুড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি অধিবেশনেই অধিকাংশ কমিটি গঠন হয়ে যাবে। সাধারণত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এসব কমিটিকে ছায়া সরকার হিসেবেই ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও খুটিনাটি সব তুলে ধরা হয় কমিটির বৈঠকে।

x