Skip to content

বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষায় দুর্নীতি ৫ ভাগ কম

বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষায় দুর্নীতি ৫ ভাগ কম বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০১৪’ উপলক্ষে সততা-সংঘ সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নাহিদ বলেন, সারাবিশ্বে শিক্ষাক্ষেত্রের দুর্নীতি নিয়ে একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষায় গড়ে শতকরা ১৭ ভাগ দুর্নীতি হয়। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থান শতকরা ১২ ভাগ। যা আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় অবদান।

আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান।

দুদকের এ আয়োজনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্র নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। আমি চাই জিরো পার্সেন্টে নেমে আসুক। যেখানে দুর্নীতি বাধা হয়ে দাঁড়াবে, সেখানেই প্রতিরোধ।

নাহিদ বলেন, আমরা সবাই জানি, দুর্নীতি আমাদের সমাজে শেকড় গেড়ে আছে। কিন্তু আমরা তা নির্মল করতে চাই। কারণ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আমাদের দেশ-শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

তিনি বলেন, দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা। তারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে অবহিত রয়েছেন। দুর্বল হাতে যেন ব্যবস্থা নেওয়া না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। সমাজের প্রভাবশালীদের মধ্যে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসার আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে জিরো টলারেন্সে। আমরা এখনো শতভাগ সফল হয়নি। তবে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

দুদকের কমিশনার (তদন্ত) শাহনেওয়াজ বলেন, অর্থনীতি মুক্তির প্রধান অন্তরায় একমাত্র দুর্নীতি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি স্তরে স্তরে প্রতিরোধ করতে হবে। আর এর কাণ্ডারি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা যদি তাদের পরিবার-পরিজন এবং সবাইকে উদ্ধুদ্ধ করতে পারে তাহলে অবশ্যই দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব। সবার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এজন্যই সততা সংঘের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মোট কথা সবাইকে মিলেই দুর্নীতি রোধ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মদের এগিয়ে আসতে হবে।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর সততা সংঘের সদস্যদের শপথনামা পাঠ করানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘নিজে কোনো অন্যায়-দুর্নীতি করবো না এবং কখনো প্রশ্রয় দেবো না।’ সহ নানা শপথ বাক্য।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ২৬ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। চতুর্থবারের মতো এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

x