Skip to content

এবার মাস্টার্স কোর্স চালুর অনুমোদন পেল সরকারি কলেজ

জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে চারটি বিষয়ে মাস্টার্স চালু হতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য এ খবর জানার পর কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌঁছেছে।

রোববার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মেজর ছয়ফুল কবীর চৌধুরী বিষয়টি সুনামগঞ্জ মিরর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

মাস্টার্সে চালু হতে যাওয়া বিষয় চারটি হল – বাংলা, ইতিহাস, দর্শন এবং হিসাববিজ্ঞান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম অধিভূক্তি কমিটির সভার অনুমোদন সাপেক্ষে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে এ চারটি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম সাময়িক অধিভূক্তি প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুনামগঞ্জ কলেজকে অনার্স কলেজে উন্নীত করার ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৮-৯৯ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ৮টি বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি ফি বাবদ ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। এরপর ২০০১ সালে বাংলা, দর্শন, ইতিহাস এবং হিসাববিজ্ঞান এ ৪ বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। এবছর মার্চ মাস থেকে যুক্ত হয় আরো ছয়টি কোর্স। এখন মোট অনার্স কোর্সের সংখ্যা হল ১০টি। নতুন বিষয়গুলো হল, ইংরেজী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, গণিত এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান।

কলেজটিতে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণীতে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ বাদে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত রয়েছেন ৩৩জন শিক্ষক।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৪ সালের ১ জুলাই ‘সুনামগঞ্জ কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আসামের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী স্যার সৈয়দ মুহম্মদ সাদউল্লা। প্রথমে বেসরকারি মিলনায়তন টাউন হলে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮০ সালের ৩ মার্চ কলেজটি জাতীয়করণ হয় সরকারি কলেজের মর্যাদা লাভ করে। এ কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী।
বর্তমানে এটিই সুনামগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসেন।

জানা গেছে, অনার্সে বিষয় বৃদ্ধি করা ও মাস্টার্স কোর্স চালু কলেজ কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের দাবী। বিভিন্ন সময় কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দসহ ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নও এব্যাপারে দাবী জানিয়ে আসছিল।

বাংলা চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার সভাপতি অভিজিৎ রায় এ প্রতিবেদককে বলেন, অনার্সে বিষয় বৃদ্ধি ও মাস্টার্স কোর্স চালুর ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছি আমরা। অনার্সে বিষয় বৃদ্ধির দাবী অনেকাংশেই পূরণ হয়েছে, এখন এই চারটি বিষয়ে মাস্টার্স চালু হলে অনেকেই জেলা শহরে থেকেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে । তিনি বলেন, অবিলম্বে কলেজের অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সিলেটের চৈতন্য প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী রাজীব চৌধুরী বলেন, এখন জেলা শহরেই মানসম্মত উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে, আর এতে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের অধিক অর্থ ব্যয় ও অহেতুক দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে। এখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও লোকবল প্রয়োজন।

কলেজের কম্পিউটার অপারেটর ওমর ফারুক জানান, মাস্টার্স চালু হতে যাওয়ার খবরে কলেজের সব শিক্ষক-কর্মচারীরাও আনন্দিত।

কলেজের উপাধ্যক্ষ সৈয়দ মহিবুল ইসলাম বলেন, এখন প্রয়োজন কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। নতুন বিভিন্ন বিষয় চালু হয়েছে, এখন নতুন পদ সৃষ্টি করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের পদায়ন করতে হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মেজর ছয়ফুল কবীর চৌধুরী বলেন, তিনি এ কলেজে যোগদানের পর থেকেই উপাধ্যক্ষ মহোদয়কে সাথে নিয়ে অনার্সে বিষয় বৃদ্ধি ও মাস্টার্স চালুর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ইতিবাচক ফল মিলেছে।
অধ্যক্ষের আশা, নতুন অনার্স কোর্সগুলো ও মাস্টার্স কোর্স চালুর মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজকে শিক্ষার মানের দিক দিয়ে এগিয়ে নিতে পারলেই অধ্যক্ষ হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনকে স্বার্থক মনে করবেন তিনি।

x