Skip to content

প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুদের বুকে টেনে নিলেন

অজ্ঞতার ভয়ংকর থাবায় আক্রান্ত অনেক বাবা-মা কথিত সম্মান রক্ষা করতে আত্মীয়-স্বজন সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন অটিস্টিক শিশুদের। এসব শিশু সবার অজান্তে বন্দী হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় তারা। অনেকটা ‍আবেগতাড়িত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অভিশাপ ভেবে সমাজের অনেকেই যখন প্রতিবন্ধী শিশুদের দূরে ঢেলে দিচ্ছেন তখন প্রধানমন্ত্রী বুকে টেনে নিলেন তাদের। আহ্বান জানানলেন প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষকে আরো সচেতন হতে। পাশাপাশি এসব অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করলেন তিনি।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে ‘৭ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৪’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আসা প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ভলোবাসায় ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১০টা ২৫ মিনিটে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্বোধন ও জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পরই প্রধানমন্ত্রী দর্শক সারিতে থাকা প্রতিবন্ধী শিশুদের দিকে এগিয়ে যান। তাদের কারো মাথায়, কারো পিঠে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিতে থাকেন ভালোবাসা।

জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্সের নকশাটি যখন মনযোগ দিয়ে দেখছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রীর পাশে তানভীর নামে ১২ বছরের একটি প্রতিবন্ধী শিশু এসে দাঁড়ালো। তাকেও কাছে টেনে নিলেন ।

এরপর দর্শক সারি থেকে নির্ধারিত মঞ্চে গিয়ে বসলেন। উপস্থিত শত শত প্রতিবন্ধী শিশুর প্রতিনিধি হিসেবে তানভীরও স্থান পেলো প্রধানমন্ত্রীর পাশে। অটিজমের স্বভাবসুলভ অস্থিরতায় তানভীর মাঝে মাঝেই উঠে যাচ্ছিলো তার বসার জায়গা থেকে। প্রধানমন্ত্রীই আবার তাকে ডেকে পাশে বসিয়ে দিচ্ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী যখন ডায়াসে বক্তব্য রাখছিলেন তখনও এক পর্যায়ে শিশুটি উঠে এসে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ায়। বক্তব্য থামিয়ে বিন্দুমাত্র বিরক্তি না দেখিয়ে তানভীরের কাঁধে হাত রেখে কাছে টেনে নেন প্রধানমন্ত্রী। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী একটি ফুল তুলে দেন শিশুটির হাতে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হলে আরো দুটি অটিস্টিক শিশু মঞ্চে ছুটে আসে। প্রধানমন্ত্রী তাদেরও স্নেহের পরশে কাছে টেনে নেন।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী দর্শক সারিতে গিয়ে বসেন। অটিস্টিক শিশুদের কেউ কেউ তার কাছাকাছি এগিয়ে আসে। এদের দুই একজনকে অটোগ্রাফও দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে ফটোসেশন করেন। পরে প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অটিস্টিক শিশুদের ঘরে বন্দী না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেকে তাদের অটিস্টিক শিশুদের ঘরে বন্দী করে রাখেন। অনেক বাবা-মা তাদের ঘুরে লুকিয়ে রাখেন। এটা ঠিক না।

তিনি বলেন, অটিস্টিক শিশুদের সুযোগ করে দিতে হবে তারা যেন সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে বাঁচতে পারে।

সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে অটিস্টিক শিশুদের একীভূত করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অটিস্টিক শিশুরাও এ সমাজের, তারাও আমাদের কারো না কারো সন্তান, কোন আত্মীয়। তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে হবে। প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে অবহেলার শিকার না হয়।

প্রতিবন্ধী শিশুদের মেধা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

মেধার বিকাশ ঘটানো গেলে প্রতিবন্ধীরাও দেশের অমূল্য সম্পদ হবে।

x