Skip to content

‘ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় যথার্থ’

জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এই মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় যথার্থ হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অবশ্যই এ রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকা উচিত।

সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলে অ্যাটর্নি জেনারেল।

এর আগে আগামী রোববার ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওইদিন আসামিপক্ষ রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের জবাব দেবেন। ওইদিন আসামিপক্ষ রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের জবাব দেবেন।

বৃহস্পতিবার আপিল মামলাটির শুনানির ৪৭তম দিনে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের মধ্যে সবগুলোর বিষয়েই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করলেন।

এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় মামলার কার্যক্রমও একেবারে শেষ পর‌্যায়ে চলে এসেছে।

ইতোমধ্যে আসামিপক্ষও তাদের শুনানি ও যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ করেছেন। তবে আগামী রোববার রাষ্ট্রপক্ষের শুনানির জবাব দেবেন আসামিপক্ষ। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামিপক্ষের জবাবের পর প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষও বক্তব্য দিতে পারবেন।

সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহেই এ মামলার শুনানি শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। এরপর রায়ের জন্য আপিল মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখবেন আপিল বিভাগ। যেমনটি করা হয়েছিলো আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার ক্ষেত্রে।

শুনানি শেষ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় বহাল রাখার আরজি জানিয়েছেন। শুনানিতে তিনি আরও বলেন, এক মোমেনার সাক্ষ্যে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। মোমেনার মতো নির্ভরযোগ্য সাক্ষী এ মামলাতেও রয়েছে। তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সাঈদীর অপরাধ আরো ঘৃণ্য ও মারাত্মক। হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, পাকিস্তানি বাহিনীকে আমন্ত্রণ ও অভ্যর্থনা, অগ্নিসংযোগসহ সব ধরনের অপরাধ তিনি করেছেন। হত্যার চেয়েও ভয়ানক আরেকটি অপরাধ তিনি বলেছেন। সেটা হচ্ছে, মানুষকে জোর করে ধর্ম পরিবর্তন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দু’টি আপিল (আপিল নম্বর: ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন।

এরপর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথমে শেষ হয় সাঈদীর করা আপিল আবেদনের শুনানি। সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট এএসএম শাহজাহান এতে অংশ নেন। ট্রাইব্যুনালের ১২০ পৃষ্ঠা রায় পড়ে শোনানো শেষে তারা রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্য ও জেরা পেপারবুক থেকে উপস্থাপন শেষ করেন গত ২১ জানুয়ারি।

এরপর গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অ্যাডভোকেট এএসএম শাহজাহান সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রধান বিচারপতি মো. মোজ্জাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি চলছে। অন্য ৪ বিচারপতি হচ্ছেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের মতো আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দু’টি অপরাধে সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ’ থেকে ১শ’৫০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মত ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

এগুলোর মধ্যে সন্দেহাতীতভাবে ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্যে দু’টি অভিযোগে অর্থাৎ ৮ ও ১০ নং অপরাধে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এছাড়া ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নং অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এগুলোতে কোনো সাজার কথা ঘোষণা করেননি ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল জানান, দুই অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় বাকিগুলোতে আর সাজা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আর বাকি ১২টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলোতেও কোনো সাজা ঘোষণা করা হয়নি।

সাজা ঘোষিত না হওয়া ওই ৬টি অভিযোগে শাস্তির আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আর সাঈদীর ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর বিধান অনুসারে, রায় ঘোষণার এক মাসের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা যাবে। সে হিসেবে গত বছরের ২৮ মার্চ আপিলের শেষ দিনটিতেই উভয়পক্ষ আপিল আবেদন করেন।

x