Skip to content

কুতুবপুরের উদ্দেশ্যে এবিএম মূসা

প্রথিতযশা সাংবাদিক এবিএম মূসাকে দাফনের উদ্দেশে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে কুতুবপুরের পথে রওনা হয়েছে মরদেহবাহী গাড়ি।

এবিএম মূসার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা বৃহস্পতিবার বাদ জোহর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ এবিএম মূসার ভক্ত, গুণগ্রাহীরা দ্বিতীয় নামাজে জানাজায় অংশ নেন। এর আগে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান দেশবরেণ্য এই সাংবাদিককে।

নামাজে জানাজা শেষে এবিএম মূসার ছেলে ডা. নাসিম মূসা ও মেয়ে পারভীন সুলতানা ঝুমা সমবেতদের উদ্দেশ্যে তাদের বাবার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া কামনা করেন।

পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, আমার বাবা কখনো কোনো অন্যায় করেননি, কারো কোনো ক্ষতি করেননি। তারপরও আমার বাবার জন্য কেউ কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

ডা. নাসিম মূসা বলেন, আমার বাবা জাতীয় প্রেসক্লাবকে ভালোবাসতেন। বাড়ির অনেক প্রয়োজনীয় কাজ ফেলেও প্রেসক্লাবে ছুটে আসতেন। জীবনের বড় একটা সময় তিনি প্রেসক্লাবে কাটিয়ে দেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘর থেকে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের প্রিজার্ভ ভ্যানে জাতীয় প্রেসক্লাবে নেওয়া হয়।

সেখানে এবিএম মূসাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, আব্দুল কাইয়ুম, সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) অপর অংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবিএম মূসার শেষ ইচ্ছানুযায়ী ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে তার মায়ের কবরের পাশে শায়িত করা হবে। দ্বিতীয় নামাজে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর দুইটা ১০ মিনিটের দিকে প্রবীণ এ সাংবাদিকের মরদেহবাহী গাড়ি প্রেসক্লাব থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাদ মাগরিব ফেনীর মিজান ময়দানে ফেনী প্রেস ক্লাবের আয়োজনে তৃতীয় এবং তার নিজ গ্রামে চতুর্থ ও শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে রাত দশটার মধ্যে তাকে দাফন করা হবে বলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

লাইফ সাপোর্টে থাকা সাংবাদিক এবিএম মূসাকে বুধবার দুপুরে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করার পরই তাকে তার নিজ বাসভবন মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে নিয়ে আসা হয়।

বুধবার বাদ মাগরিব (মাগরিবের নামাজের পর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে এবিএম মূসার মরদেহ রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়। রাতে মরদেহ সেখানেই রাখা হয়।

ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুর সোয়া একটায় ইন্তেকাল করেন এবিএম মূসা।

গত সোমবার ল্যাবএইডে ভর্তি হন এবিএম মূসা। তিনি ব্লাড ক্যান্সারের মতো রোগ মাইলো ডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে মধ্যরাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. বরেণ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রবীণ এ সাংবাদিককে ফেরাতে সকল চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তার নেতৃত্বাধীন বিশেষ টিম। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার সোয়া একটায় জীবনপ্রদীপ নিভে আসে দেশ ও জাতির বিবেকসম এবিএম মূসার। এর পরই তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।

এবিএম মূসার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী সেতারা মূসা, এক ছেলে ডা. নাসিম মূসা এবং তিন মেয়ে শারমীন মুসা, মরিয়ম সুলতানা ও পারভীন সুলতানা ঝুমাসহ অসংখ্য ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

x