Skip to content

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই মামলা করতে হবে : সুরঞ্জিত

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তাদের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই মামলা করতে হবে।’

রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে শুক্রবার দুপুরে চলমান রাজনীতি নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু একাডেমী’র আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সুরঞ্জিত বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় নয়, আমি বলবো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে হবে। যদি ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অ্যাক্টে কাজ না হয় তাহলে, আইন মন্ত্রণালয় ছোট একটি অধ্যাদেশ জারি এর নিষ্পত্তি করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীপুত্র লন্ডন থেকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। ইতিহাস বিকৃতির জন্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সে এ বক্তব্য দিচ্ছে। এটা এতো বেশি উদ্বেগের বিষয় হতো না, যদি বেগম জিয়া ও বিএনপি নেতারা এটি সমর্থন না করতো।’

সুরঞ্জিত বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃত করতে তারা একের পর এক বক্তব্য দিচ্ছে। আগে বেগম জিয়ার গুণধরপুত্র দাবি করলেন, তার পিতা দেশের স্বাধীনতার ঘোষক। এখন বঙ্গবন্ধুকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। এটি আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় অর্ধশিক্ষিত রাজনৈতিক যুবকের বাচালতা। কেউ কেউ বলছেন অর্বাচীনতা। এটা এখনই সমূলে বিনাশ না করলে এর ডালপালা মেলবে।’

‘আমাদের সংবিধানে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ নেই’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘৭ মার্চ এর ভাষণ সংবিধানের অংশ। স্বাধীনতার ঘোষণাও সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ এর বিকৃতি করলে সেটা হবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এর শাস্তি হবে সর্বোচ্চ।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ৪ এর ‘ক’ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, কে দেশের স্বাধীনতার ঘোষক। যারা স্বাধীনতার মৌল ইতিহাস ও তত্ত্বের উপর আঘাত করে তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের নাগরিক থাকার অধিকারও তাদের নেই।’

তারেকের কাছে প্রশ্ন রেখে সুরঞ্জিত বলেন, ‘তিনি কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পড়ে দেখেছেন? আইনসম্মতভাবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন। বিএনপিতে অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তি আছেন। তারা এখন এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। খুলতে পারবেনও না। এটা শুধু তারেক রহমানের বালখিল্যতা, অর্বাচীনতা অথবা মুর্খতা।’

সাবেক দপ্তরবিহীন এই মন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের আইএসআই যা পড়িয়েছে সে তাই বলছে। সূতরাং এটি স্বাভাবিকভাবে নিলে হবে না। যারা এ জাতীয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করবে তাদের অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হবে।’

ফজলুল হক বনাম রাষ্ট্রের একটি মামলার কথা উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘ওই মামলা সবশেষে সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। মামলার রায়ে বিচারপতি এ এস এম সায়েম ও মাহমুদ হাসান স্পষ্ট বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যা করেছেন সেটাই আইনসম্মত। যদি এটা মূর্খতাবশত হয়, তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি তারা ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য তুলে নেয়, তাহলে সরকার একভাবে দেখবে। অন্যথায় মামলার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হবে। এটিই জাতির প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘৪৩ বছর পর সেদিনের একটি ছেলে ইতিহাস বিকৃতির সাহস কোথা থেকে পায়? ইতিহাস জানে না, সংবিধানের ন্যূনতম জ্ঞান নেই। এটা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস যুবকের মূর্খতামাত্র। এটি ভয়ঙ্করও।’

সংগঠনের উপদেষ্টা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শিরিন নাঈম পুনম, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুণ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

x