Skip to content

গুপ্তহত্যার জন্য বিএনপি দায়ী, বললেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে যত চোরাগোপ্তা হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটছে তার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরে জাতীয় শ্রমিক লীগের মে দিবসের সমাবেশে তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতায় আসে তারাই চোরাগোপ্তা হামলার রাজনীতি করে এবং সেটাই তারা করে যাচ্ছে।”

“এখন যতো চোরাগোপ্তা গুপ্তহত্যা হচ্ছে এর জন্য তারাই (বিএনপি) যে দায়ী, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীকে বলব, চোরাগোপ্তা হামলা ও আন্দোলন পরিহার করে উনি যেন স্বাভাবিকভাবে আন্দোলন করেন। উনি যেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেন।

যাদের চুরি করার অভ্যাস, চোর চোর মন তারা চোরাগোপ্তা হামলা, হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় যারা চোরাগোপ্তা হামলার মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

বিকালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস (মে দিবস) উপলক্ষে গাজীপুরে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না আসায় খালেদা জিয়ার কড়া সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, উনি নির্বাচনে না এসে যে ভুল করেছেন, সেই ভুলের খেসারত বাংলাদেশের জনগণ কেন দেবেন? সে ভুলের খেসারত এদেশের কৃষক-শ্রমিক কেন দেবেন?

“যেসব প্রভুরা উনাকে (খালেদা) নির্বাচনে না আসার বুদ্ধি দিয়েছেন, উনি তাদের কাছে চলে যেতে পারেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা বিচার শুরু করেছি। বিচারের রায়ও বাংলার মাটিতে কার্যকর করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি জনসভাস্থলে পৌঁছান। প্রথমে তিনি গাজীপুর মহানগরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এরপর তিনি গাড়িতে করে জনসভাস্থলে যান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সফল করতে গাজীপুরকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। স্থানীয় শ্রমিক, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছার পর বিপুল করতালি ও স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই মে দিবস শ্রমিকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই গাজীপুর থেকেই ১৯৭১ সালের মধ্য মার্চের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ তৈরি করেছিল। সেখানে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা ভূমিকা রেখেছিলো। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, শ্রমিকনেতা ময়েজ উদ্দিন ও আহসানউল্লাহ মাস্টারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের রাজনীতি। তাই আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মেহনতি মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়, দারিদ্র্য হ্রাস পায়।

শ্রমিকদের কল্যাণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে শ্রমিকরা ন্যায্য দাবি জানাতে গিয়ে গুলি খেয়েছেন। ১৭ জন শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ শ্রমিকদের সেবক। তার সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়েছে। চাকরির বয়সীমা ৫৭ বছর থেকে ৬০ বছর বাড়িয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিকদের ডরমেটরি, আবাসন ব্যবস্থা, বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট তৈরি করা এবং গ্রামে ফিরতে আগ্রহী বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সফল করতে গাজীপুরকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছার পর বিপুল করতালি ও স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

জাতীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি শক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আজমত উল্ল্যাহ খান, সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি প্রমুখ।

বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ জনসভাস্থল ঘিরে রেখেছে। আইন-শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক মাঠে প্রস্তুত রাখা হয়। জনসভাস্থলকে ঘিরে আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা।

ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত মহাসড়কে অসংখ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়। রাস্তায় রাস্তায় রং-বেরংয়ের ব্যানার ফেস্টুন শোভা পায়।

x