রোকেয়া এক মহীয়সী নারীর নাম

ঢাকা: ৯ ডিসেম্বর ‘বেগম রোকেয়া দিবস’। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া রংপুর জেলার মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামের জহিরউদ্দিন মুহম্মদ আবুল আলী হায়দার সাবের ও রাহাতুন্নেসা চৌধুরানীর ঘরে ১৮৮০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন।

জহিরউদ্দিন মুহম্মদ আবুল আলী হায়দার সাবের একজন উচ্চ শিক্ষিত হয়েও মুসলিম সমাজের রীতি অনুযায়ী মেয়েদের শিক্ষার দ্বার রূদ্ধ করে রেখেছিলেন।

বেগম রোকেয়ার দুই ভাই আবুল আসাদ ইবরাহীম সাবের এবং খলিলুর রহমান আবু জাইগাম সাবের ও দুই বোন করিমুন্নেসাএবং হুমায়রা।

রোকেয়ার পরিবারে পর্দা প্রথার এতই কড়াকড়ি ছিল যে, আত্মীয় পুরুষ তো দূরের কথা বহিরাগত নারীদের সামনেও মেয়েদের পর্দা করতে হতো। নারী শিক্ষার সুযোগ বলতে ছিল শুধু কোরআন তেলাওয়াত শিক্ষা ও উর্দু শিক্ষা। বাংলা বর্ণপরিচয় ছিল নিষিদ্ধ।

বড় ভাই ইবরাহীম সাবের ১৮৮৫ সালে বি,এ পাশ করেন। তিনিই বোন রোকেয়া ও করিমুন্নেসাকে পরিবারের সবার অগোচরে মোমের আলোয় লেখাপড়া শেখান।

সেই থেকে অযৌক্তিক ও নির্মম সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে রোকেয়ার মনে জন্ম নেয় প্রচণ্ড বিদ্রোহ।

১৮৯৬ সালে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যজিস্ট্রেট খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সাথে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয়। তিনি রোকেয়ার বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন,লেখালেখিতে উৎসাহ, স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ সঞ্চয় ও নারীশিক্ষার প্রসারে সহযোগিতা প্রদান করেন।

রোকেয়া ১৯০২ সালে ‘পিপাসা’ গল্প লিখে সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করেন। ১৯০৫ সালে তিনি ইংরেজিতে ‘সুলতানা’স ড্রিম’ (সুলতানার স্বপ্ন) লেখেন। স্বামী সাখাওয়াত হোসেন লেখাটি পড়ে প্রকাশের জন্য উৎসাহিত করেন। ১৯০৮ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে বইটি বাংলায় প্রকাশিত হয়।

বিয়ের মাত্র ১৩ বছর পরে ১৯০৯ সালে তার স্বামী মারা যায়। এতে অবদমিত না হয়ে ‘নারী শিক্ষার প্রসার ছাড়া নারী সমাজের মুক্তি নাই এবং সমাজের কোনো আশা নাই’ এ মূল মন্ত্রে বিশ্বাসী থেকে সমাজের প্রবল বাধা উপেক্ষা করে নিগৃহীত নারীসমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান।

সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর পাঁচ মাস পরে ভাগলপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটি ১৯১১ সালে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে স্কুলটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার পরিচালিত।

স্কুল প্রতিষ্ঠা ছাড়াও নিগৃহীত নারীসমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে গতিশীল করার জন্য বেগম রোকেয়া ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম’ নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

পাশাপাশি সমাজের অনাচারের বিরুদ্ধে তার লেখনী চালিয়ে যান। কেবলমাত্র নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের ‘অগ্রদূতই ছিলেন না, তার সামগ্রিক চিন্তা চেতনা ছিল আন্তর্জাতিক মানের।

জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল, সংগঠন এবং সাহিত্য সাধনা নিয়ে সময় অতিবাহিত করেন।

১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া ইন্তেকাল করেন। রোকেয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন রেখে প্রতিবছর এই দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

x