করোনাকালে জার্মান অভিধানে যুক্ত হয়েছে ১২০০ নতুন শব্দ

একবিংশ শতাব্দীর হয়তো কঠিন সময়টা এই মুহুর্তে পার করছি আমরা। হালনাগাদকৃত মুহুর্মুহু করোনার ব্রেকিং শুনতে আমরা শঙ্কিত, এই বুঝি এলো নতুন রেকর্ড। কারও আপনজন, প্রতিবেশী কিংবা কারও শুভানুধ্যায়ীর প্রদীপ নিভছে নিভৃতে। সংখ্যার পরিবর্তনটা নিয়মিত আপটেড হচ্ছে এভাবে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে করোনারোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২১ কোটি, মৃতের সংখ্যা ৫০ লক্ষ প্রায়। করোনা মহামারীর কঠিন এ সময়টাতে পৃথিবীতে নানা পরিবর্তন আসছে বিভিন্নভাবে। করোনার হানায় বদলে গেছে মানুষের জীবনধারা, সমাজের রীতিনীতি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দগত ও ভাষাগত পরিবর্তনও দৃশ্যমান হচ্ছে। সহজভাবে বললে কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন কিংবা লকডাউনের মতো এরকম অসংখ্য শব্দমালার সাথে প্রতিনিয়ত আমরা পরিচিত হচ্ছি করোনার বদৌলতে। তবে এই ভাষাগত ব্যাপারটিতে জার্মান অভিধানে তাক লাগানোর মতো ঘটনা ঘটিয়েছে করোনা।

মহামারিকালে এই ভাষার তাত্ত্বিকেরা প্রায় ১ হাজার ২০০ এর বেশি নতুন শব্দ সংগ্রহ করেছেন। গত বছর থেকে মহামারিকালে জীবনধারা আমূল পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব শব্দের সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানির ‘লাইবনিৎস ইনস্টিটিউট ফর দ্য জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ’ এই শব্দগুলো একত্রিত করেছে। সংস্থাটি অতীত ও বর্তমানের জার্মান শব্দ নথিবদ্ধ করে থাকে। সাধারণত গড়ে প্রতিবছর প্রায় ২০০ নতুন জার্মান শব্দ সংগ্রহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবার এক হাজার ২০০ এর বেশি শব্দ সংগৃহীত হয়েছে। সংগৃহিত শব্দগুলো বিশ্লেষণের পর দেখা গেছে এগুলো সব কোভিড-১৯ সম্পর্কিত।

এখানে করোনাম্যুডে (কোভিড-১৯ এ ক্লান্ত) থেকে শুরু করে করোনাফ্রিজুয়া (করোনা চুলের স্টাইল), করোনাঅ্যাংসট (ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ), ইম্ফনাইড (যারা অন্যের টিকা দেওয়া হিংসা করছে) এমন রয়েছে। করোনাকে পর্যুদস্ত করতে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যার ধারা অব্যাহত থাকবে শেষ পর্যন্ত। দেশে দেশে টিকা কার্যক্রম চলছে। ধারণা করা হচ্ছে অচিরেই করোনামুক্ত হবে পৃথিবী। তবে করোনার পরও থেকে যাবে সৃষ্ট নানা অভ্যাস, রীতিনীতি। অভিধানে যুক্তকৃত শব্দগুলোর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মও জানবে করোনাকালের ভয়াবহতা।

  • সৃজন পাল, সহকারি সম্পাদক, সুনামগঞ্জমিরর

সুনামগঞ্জমিরর/এসপি/টিএম

x