কোভিড-১৯: বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় কমেছে মৃত্যু ও সংক্রমণ

গেল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সারা বিশ্বে কিছুটা কমেছে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। মহামারি শুরুর পর থেকে এ রোগে দৈনিক আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রকাশকারী ওয়েবসাইট করোনাভাইরাস ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ জন, মারা গেছেন ৯ হাজার ৮১৫ জন। আগের দিন বৃহস্পতিবার নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮২ এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৮০৬ জন। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে ২৪ হাজার ৫৯৬ এবং মৃতের সংখ্যা কমেছে ৯৯১ জন।

গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে শুক্রবারও করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই দিনে দেশটিতে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৩ এবং মারা গেছেন মোট ১ হাজার ৫১২ জন।

এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি থাকা অন্যান্য দেশ হলো, ভারত (নতুন আক্রান্ত ৪২ হাজার ৩৪৬, মৃত্যু ৩৪০), যুক্তরাজ্য (নতুন আক্রান্ত ৪২ হাজার ৭০, মৃত্যু ১২১), ইরান (নতুন আক্রান্ত ২৭ হাজার ৬২১, মৃত্যু ৫৬১ ), তুরস্ক (নতুন আক্রান্ত ২২ হাজার ৮৫৭, মৃত্যু ২৭৬), ব্রাজিল (নতুন আক্রান্ত ২৫ হাজার ৩৪৮, মৃত্যু ৭৪৯), মালয়েশিয়া (নতুন আক্রান্ত ১৯ হাজার ৩৭৮, মৃত্যু ৩৩০), মেক্সিকো (নতুন আক্রান্ত ১৮ হাজার ৩৩৮, মৃত্যু ৯৯৩) এবং রাশিয়া (নতুন আক্রান্ত ১৮ হাজার ৩৫৬, মৃত্যু ৭৯৯)।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগী আছেন ১ কোটি ৮৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৮৩ জন। এদের মধ্যে করোনার মৃদু উপসর্গ বহন করছেন ১ কোটি ৮৪ লাখ ৩ হাজার ৮৬৬ জন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৮১৭ জন। এ ছাড়া শুক্রবার করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৯১ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ কোটি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫২ জন এবং মারা গেছেন মোট ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ২১৩ জন। এর বাইরে, বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৯ কোটি ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৭ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল চীনে। তারপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কিন্তু তাতেও এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় অবশেষে ওই বছর ১১ মার্চ করোনাকে বৈশি^ক মহামারি ঘোষণা করা হয়।

x