সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কালীবাড়ি মোড়ের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর উত্তরে ও নবনির্মিত শিল্পকলা একাডেমি ভবনের দক্ষিণে, সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের বিপরীতে ফাঁকা জমিতে শহীদ মিনার স্থাপনের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিতব্য এ শহীদ মিনারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে একসময় পরাধীন ছিলাম। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল মর্মবাণী ছিল বাঙালিত্ব প্রতিষ্ঠা। আমাদের বাঙাল বলে গালি দেওয়া হতো। কিন্তু আমরা এই শব্দ নিয়ে গর্ব করি। এটা গর্বের। আমরা এই চেতনা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।’ মন্ত্রী শহীদ মিনারকে এ জাতি চেতনার প্রতীক উল্লেখ করে এটি নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব নূরুল হুদা মুকুট এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বিপিএম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত প্রমুখ।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট জানান, সুনামগঞ্জ শহরে বড় পরিসরে দৃষ্টিনন্দন একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় আছে। এটি এই জেলাবাসীর প্রাণের দাবি। এই স্থানে একটি দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজও অচিরেই শুরু হবে।

মূলত বিগত কয়েকবছর ধরেই সুনামগঞ্জে নতুন করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির স্থানটি সংস্কার ও সম্প্রসারণে এক প্রকার অনুপযুক্ত হওয়ায় দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনার চলে স্থান নির্ধারণ নিয়ে। এর আগে জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালেও নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে সেটির প্রস্তাবিত স্থান সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একপাশে হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাত্রদের অসমর্থনের কারণে বাতিল হয়। এরপর নতুন করে স্থান নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলেছে বেশ কয়েকবার। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার নির্মাণ করা নিয়েও প্রস্তাব ওঠে। এছাড়া সুনামগঞ্জের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, সাবিরুল ইসলাম বিপ্লব ও মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সময়কালেও জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে সুনামগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, উন্মুক্ত স্থানেই নির্মাণ করা হবে শহীদ মিনার। সভায় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখত জগলুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করবে। কিন্তু শহরে সুবিধাজনক জায়গা না পাওয়ায় এর কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল। জেলা প্রশাসক তাঁর কার্যালয় প্রাঙ্গণে জায়গা দিতে সম্মত হওয়ায় সেখানে রোববার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে শহীদ মিনার নির্মাণ না করার দাবি জানালে ওই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। ওই সভায় বক্তব্য দেন প্রবীণ আইনজীবী ও লেখক স্বপন কুমার দেব, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী প্রমুখ।

সেসময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘পুরোনো শহীদ মিনারের জায়গাতেই আমরা নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখানে জায়গা কম এবং জটিলতা থাকায় সম্ভব হচ্ছে না। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সুবিধাজনক স্থানে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।’ এরই প্রেক্ষিতে এবার জেলা পরিষদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামের পশ্চিমের জমিতে শহীদ মিনার স্থাপন করা হচ্ছে। শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জের সুশীল সমাজ।

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x