শান্তিগঞ্জে হাওরের বাঁধ ভেঙে দেয়ার অভিযোগ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাইহাওরের বেরি বাঁধ উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধগুলোর একটি। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ বাঁধ উপজেলার প্রায় সবক’টি হাওরের রক্ষা কবচ। প্রচুর অর্থ ব্যয়ে প্রতিবছর বাঁধটিকে সুরক্ষিত করে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বাঁধটি বর্ষার শুরুতে যেমন হাওরে পানি প্রবেশ ঠেকায় তেমনি বর্ষার শেষে জমি চাষের জন্য ধরে রাখে সম্পূর্ণ খাই হাওরের পানি। যে পানি ব্যবহার করে পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক চাষ করেন শত শত হেক্টর ধানী বোরো জমি। কিন্তু গত চারদিন আগে রাতের আঁধারে একটি দুষ্কৃতিকারী মহল বেরিবাঁধের খাইবিলের দক্ষিণ পূর্বাংশে অংশ (২২ নং পিআইসি) কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রবল গতিতে হাওর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে পানি। ক্রমশ বড় হচ্ছে ভেঙে দেওয়া অংশ ও গভীর থেকে হচ্ছে আরো গভীর।

বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাই হাওরের পানি আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে। পানির ভরা মৌসুম থাকার পরও পানি কমে যাওয়ায় হাওরের মাঝখানেই মাঝে মাঝে আটকে যাচ্ছে নৌকা। খাই বিলের দক্ষিণ পূর্বাংশের পানির গভীর অংশের কাছে ১০ থেকে ১৫ ফুট বড় করে দূর্বৃত্তরা ভেঙে দিয়েছে বেরিবাঁধ। এ ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল গতিতে খাই হাওর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে পানি। একে তো প্রখর রোদ, তার উপর প্রবল গতিতে পানি চলে যাওয়ায় দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে হাওর। এতে চরম শঙ্কিত স্থানীয় কৃষকরা।

শান্তিগঞ্জে কে বা কারা হাওরের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। ছবি: ইয়াকুব শাহরিয়ার

কৃষকরা বলছেন, কে বা কারা রাতের আঁধারে বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। এতে বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই জায়গাটা গভীর। পরবর্তিতে এখানে বাঁধ আটকানে যাবে না। আগামী বছর বন্যার সময় পানির ধাক্কায় এ অংশ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মেরামত করতে গেলেও এ জায়গায় প্রচুর টাকা খরচ হবে। এছাড়াও যেভাবে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে তাতে দ্রুত সময়ের ভিতরে খাই হাওরের পানি শুকিয়ে যাবে। জমি চাষের জন্য তারা পানি পাবে না। বন্যার সময়ও বাঁধের এ অংশ দূর্বল থাকবে। একটি মহলের সাময়িক লাভের জন্য সাংহাই, পাখিমারা, শইল্যারদাইর, নাগডরা, কচুয়ার হাওর, খালডরা, দেখার হাওরসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রায় সবক’টি হাওর ক্ষতির সম্মুখিন হবে। এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হাঁসকুড়ি, ধলমৈশাসহ দুই ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ। তাদের ধারণা, বিলে মাছ ধরে লাভবান হওয়ার জন্য একটি কুচক্রী মহল এ কাজটি করে থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে কথা হয় সাবেক ইউপি সদস্য মহিব উদ্দিন ওরফে মালতার উদ্দিন, হাঁসকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সায়েম উদ্দিন, ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল খয়ের ও কৃষক ইনাম উদ্দিনের সাথে। তারা বলেন, খাই হাওরের বেরিবাঁধের সাথে উপজেলার সবগুলো হাওরের সংযোগ আছে। একটি কুচক্রী মহল তাদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। এতে হাওর থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। ধান চাষের জন্য জমিতে পানি থাকবে না। আর যেভাবে বাঁধ দূর্বল হয়েছে আগামী বন্যার সময় প্রথম ধাক্কাতেই বাঁধ ভেঙে যাবে। তলিয়ে যাবে সবগুলো হাওর। দ্রুত বাঁধটি পুনরায় বাধতে হবে এবং দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ও দরগাপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেনে খুবই খারাপ লাগছে। এটি একটি গর্হিত কাজ। খাই হাওরের বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোর দাবি, তদন্ত সাপেক্ষে যেনো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান বলেন, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। সাথে সাথে পাউবোর এসওকে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখছি।

ইয়াকুব শাহরিয়ার/সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x