স্ট্রিট ফুডে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে যে কারণে

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে তরুণদের খাদ্যাভাস। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা নামার কিছু আগেই ভিড় জমে ছোট ছোট ‘ফুড কোর্টে’র সামনে। বার্গার, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নুডলস, সাসলিক, পাকৌড়া, বিভিন্ন ধরনের শরবতসহ নানা জাতের খাবার ক্রেতার সামনেই বানিয়ে পরিবেশন করেন বিক্রেতারা। এসব খাবারের প্রধান ভোক্তা কমবয়সীরাই।

গত দুই দিনে ঢাকার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বিভিন্ন ফুড জোন ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশেই ফুটপাতে বা ক্ষেত্রবিশেষে সড়কের ওপরই বসেছে ফুড কোর্টগুলো। বেশিরভাগ খাদ্য ও খাদ্যের উপাদান খোলা ফেলে রাখা হয়, ধুলোবালি নিয়ে কারও চিন্তাই নেই। আবার ভাজাপোড়ার ক্ষেত্রেই একই তেল বারবার ব্যবহৃত হয়।

খাবার তৈরিতে মেশানো হয় বাড়তি ফুড কালার ও সিরাপ। এসবের গুণগত মান বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে খোদ ক্রেতাদের মধ্যেই আছে সন্দেহ।

যে কারণে স্ট্রিট ফুডে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

চিকিৎসকরা বলছেন, এসব স্ট্রিস্ট ফুড বানানো বা পরিবেশনের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্পন্ন উপাদান ব্যবহৃত না হলে দেখা দিতে পারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

মোহাম্মদপুরে এমনই এক ফুড কার্টে বার্গার ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে দেখা গেলো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সীমান্ত সিদ্দিককে। তিনি গনমাধ্যমকে বলেন, ‘বার্গারের পাউরুটি ও মাংস খোলাই রাখা হয়। এইগুলোর মেয়াদ আছে কি না, তা তো জানার উপায় নেই। তবে, খেতে ভালো লাগে। তাই খাচ্ছি।’

তবে স্ট্রিট ফুডের জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে দামের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন মিরপুরবাসী শানিলা আরফিন শিফা। তিনি গনমাধ্যমকে বলেন, ‘বড় এসিঅলা রেস্টুরেন্টের তুলনায় এখানের খাবার সস্তা। অনেকে মিলে খেতে গেলে কমদামে বেশ ভালো পরিমাণে পাওয়া যায়। বিকেল বা সন্ধ্যার হালকা নাস্তাও হয় আবার বন্ধু-বান্ধব মিলে আড্ডাও দেওয়া যায়।’

আরেক ক্রেতা শরীফ হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এগুলোর কোনো বিকল্প নেই। পকেটের ওপর চাপ না দিয়ে নাস্তার সুযোগ দেশে কম। ফুড কোর্টে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার তৈরি ও পরিবেশন হচ্ছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত।

যে কারণে স্ট্রিট ফুডে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

এক ফুড কোর্টের মালিক হাসান আলী গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা খালি হাতে কোনো খাবারের উপাদান ধরিই না। সবসময় ওয়ানটাইম ইউজ প্লাস্টিকের গ্লাভস ব্যবহার করি। আর খাবারও যথাসম্ভব ঢেকে রাখি। তবে যেহেতু রাস্তার পাশের দোকান, সেহেতু পরিবেশনের সময় তো আর ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না। ক্রেতারা এটুকু মেনে নিয়েছেন।’

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের সিনিয়র রেজিস্ট্রার তনিমা তাজি আঁখি গনমাধ্যমকে বলেন, ‘খাবারে পোড়া তেল ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা অনেক। এছাড়া খাবার খোলা রাখলে ধুলোবালি ও বাতাস থেকে নানা জীবাণুও মিশতে পারে।’

ইত্তেফাক/সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x