Skip to content

দূষিত বাতাসের শহরে আমাদের জীবন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭২ বছর ছয় মাস। লাইফ ইনডেক্সের গবেষণা মতে, ১৯৯৮ সালে বায়ুদূষণের কারণে গড় আয়ু কমেছিল প্রায় দুই বছর আট মাস, এখন সেটি পাঁচ বছর চার মাসে দাঁড়িয়েছে।

কবি শামসুর রাহমানের অসংখ্য কবিতায় ঢাকার রূপের উল্লেখ আছে। প্রায় প্রতিদিন কাজে যখন বের হই, এই শহরের কোথাও না কোথাও কিংবা সর্বত্রই নানা অসঙ্গতি চোখে পড়ে।  আমার মন পড়ে, বারবার— ‘যেন মৃত্যুর অকস্মাৎ এ শহরে সবক’টি ঘরে
দিয়েছে বাড়িয়ে হাত, শহরের প্রত্যেকটি ঘড়ি
হয়েছে বিকল আর শোক পালনের মতো কটি 
এখন কোথাও নেই, ভয়ানক নৈঃশব্দের ঝড়ে
শহর ময়ূর বুকে একটি কাঁকড়া শুধু তড়িঘড়ি
যাচ্ছে ঠেলে ঠেলে ক্রমাগত শূন্যতার দিকে।’

আদিবাসী আমেরিকানরা একটি প্রবাদকে কায়মনোবাক্যে স্বীকৃতি দেয়— ‘আমরা পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে পৃথিবীর উত্তরাধিকার পাইনি। বরং অনাগত প্রজন্মের কাছ থেকে ধার করেছি।’ এই প্রবাদের সারকথা এমন হতে পারে যে, স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি, এ পৃথিবীর কোনো রকম ক্ষতি করার অধিকার কারো নেই, বরং মানুষ এর একজন রক্ষক মাত্র। তবে আমাদের এই দেশে, বিশেষ করে ঢাকায় দূষণের মাত্রা দেখলে মাঝেমধ্যে খেই হারাতে হয়। পৃথিবীর একদল তথাকথিত সভ্য মানুষ পরিবেশকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে এর সুফল ভোগের পরও নিজেদের মধ্যে দায়িত্ববোধের প্রেরণা খুঁজে পায় না, ভাবতেও খারাপ লাগে। 

এ দেশে, এই শহরে কেবল নিজেরটুকু বুঝে নিয়ে ইচ্ছামতো দূষিত করে পরিবেশ এমন মানুষের সংখ্যাই এখন বেশি। কীভাবে নিশ্চিত হলাম? কারণ পত্রিকায় দেখলাম, বায়ুদূষণের দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আবারও এসেছে ঢাকার নাম। এবার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আমাদের ঢাকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখের মতো মানুষ বায়ু দূষণের কারণে মারা যায়। বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কমেছে প্রায় পাঁচ বছর চার মাস। আর ঢাকায় কমেছে প্রায় সাত বছর সাত মাস। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭২ বছর ছয় মাস। লাইফ ইনডেক্সের গবেষণা মতে, ১৯৯৮ সালে বায়ুদূষণের কারণে গড় আয়ু কমেছিল প্রায় দুই বছর আট মাস, এখন সেটি পাঁচ বছর চার মাসে দাঁড়িয়েছে। 

বিবিএস সূত্রে জেনেছি, দেশে যত গরিব মানুষ আছে, তার এক-তৃতীয়াংশ বাস করে ঢাকায়। গরিব মানুষের সংখ্যা যেহেতু বেশি, তাই বস্তির সংখ্যা সর্বাধিক। এখানে রাস্তাঘাট প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক। তারও অধিকাংশই আবার ভাঙাচোরা। আবাসন, শিক্ষাঙ্গন ও বিনোদনের সংকট প্রকট। আর বেশ কয়েকটি পার্ক আছে। সেগুলো যানবাহন, মাদকসেবী আর বখাটে লোকে ভরপুর। পানি, বিদ্যুৎ পয়ঃনিষ্কাশনের সংকট তীব্রতর। জলাবদ্ধতা, রাস্তা দখল, অপরিকল্পিত ও জরাজীর্ণ বাড়িঘর, ব্যাপক চাঁদাবাজি, নিরাপত্তাহীনতা, ভয়াবহ যানজট ইত্যাদি বিদ্যমান। তাই এখন বসবাসের অনুপযোগীর দিক দিয়ে বিশ্বের শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান একেবারে প্রথম দিকে থাকে। 

আমরা অনেকেই হয়তো জানি না পরিবেশগত মানবাধিকারের বিষয়ে। এই ধারণাটি বিভিন্ন দেশের সংবিধানেও স্থান পেয়েছে। কনভেনশন অন রাইটস টু চাইল্ডের ২৪ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রোগব্যাধি ও অপুষ্টি মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণের সময় পরিবেশের ক্ষতি ও ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে হবে।’ অ্যাডিশনাল প্রটোকল টু দ্যা ইন্টার আমেরিকান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটসের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেকেরই স্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবন ধারণের অধিকার রয়েছে।’ আফ্রিকান চার্টার অন হিউমার এ্যান্ড পিপলস রাইটসের ২৪ (১) অনুচ্ছেদে উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাধারণভাবে সন্তোষজনক পরিবেশের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন নম্বর ৪৫/৯৪-এ ঘোষণা করা হয়েছে, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিই তার জন্য সহনীয় এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করার অধিকারী।’ 

তাহলে দেখা যাচ্ছে, তাবৎ বিশ্বের সংবিধানগুলোয়ও এই মানবাধিকারের ধারণা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এবার দেশের কথায় আসি। বাংলাদেশে বর্তমানে পরিবেশ বিষয়ক আইন কার্যকর  থাকলেও সংবিধানে পরিবেশ নিয়ে সরাসরি কোনো কিছু বলা হয়নি। তবে ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, শরীর, সুনাম ও সম্পদ রক্ষার অধিকার প্রদান করা হয়েছে যাতে বৃহৎ অর্থে দূষণমুক্ত পরিবেশ লাভের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালে ওয়াটার পলিউশন কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স জারি করা হলেও মূলত এর পর থেকেই বুড়িগঙ্গার পানি ক্রমান্বয়ে দূষিত ও দুর্গন্ধময় হচ্ছে। এই নদীটির দু’তীরে অসংখ্য কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ ফেলা হচ্ছে। টোকাই, ভবঘুরে এবং নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ এ নদীর পানিতে গোসল করছে, খাচ্ছে, রান্নাবান্নায় ব্যবহার করছে আর আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে এই দূষিত নদী। মামলাও হচ্ছে না কারো বিরুদ্ধে। ১৯৭৭ সালে করা হয়েছে এনভায়রমেন্ট পলিউশন কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স।

খুঁজে দেখলাম, বাংলাদেশে পরিবেশসংক্রান্ত একগুচ্ছ আইন আছে। পরিবেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত আইনের সংখ্যা প্রায় ২০০টি। পরিবেশ আদালত শুধু বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর অধীন অপরাধগুলোর বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারে। সহনশীল পরিবেশ বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন পরিবেশ দূষণ আইন প্রয়োগ করা। পাকিস্তান আমলে অর্থাৎ ১৯৭০ সালে ‘পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ’ জারি করা হলেও ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ক্রমান্বয়ে দূষিত হয়েই চলেছে। চারদিক থেকে মানুষের সাঁড়াশি আক্রমণে নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়, মামলাও হচ্ছে না কারো বিরুদ্ধে। ১৯৭৭ সালে করা হয়েছে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন; কিন্তু বিধিবাম। এরপর ধারাবাহিক আরো কিছু আইন প্রণীত হয়েছে। 

দূষণ রোধে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ১৯৯৭ সালে পরিবেশ দূষণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। সেই আইনের ২ ধারায় পরিবেশ দূষণের দীর্ঘ একটি সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। প্রথম অংশে বলা হয়েছে পরিবেশ দূষণ বলতে মাটি, পানি ও বায়ুর দৈহিক, রাসায়নিক বা জৈবিক দূষণ ও পরিবর্তনকে বোঝাবে এবং যার মাধ্যমে এগুলোর তাপমাত্রা, স্বাদ, ঘনত্ব বা অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়  সেগুলোও দূষণের অন্তর্ভুক্ত হবে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সরকারি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পের গাড়িগুলোই সব থেকে বেশি দূষিত কালো ধোঁয়া  নিঃসরণের সঙ্গে জড়িত। তবু পুলিশ থাকে নির্বিকার। জরিমানা করার বা কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। যদি আইনের বাস্তবায়নই না হয়, তবে কাগজ-কলমে আইনের ধারাগুলো থেকে তেমন লাভ আছে কি?

পরিবেশ আদালত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিচারিক আদালতে বিশেষায়িত পরিবেশ বিচারব্যবস্থা চালু করা হয় ২১ বছর আগে ২০০০ সালে। দেশের প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক পরিবেশ আদালত এবং সারাদেশের জন্য এক বা একাধিক পরিবেশ আপিল আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয় আইনে। পরিবর্তনের হাওয়ায় আগের আইনটি রহিত করে ২০১০ সালের পরিবেশ আদালত আইন নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। মজার ব্যাপার, পরিবেশ আদালত আইনে জনগণকে সরাসরি মামলা দায়েরের অধিকার দেয়া হয়নি। 

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জনগণ কর্তৃক সরাসরি পরিবেশ আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ আদালত আইন-২০১০ এ বলা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শকের লিখিত রিপোর্ট ছাড়া কোনো পরিবেশ আদালত বা স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কোনো ক্ষতিপূরণের দাবি বা কোনো অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করবে না। পরিবেশ আদালত যেহেতু বিশেষায়িত বিচারিক আদালত, পরিবেশসংক্রান্ত অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করাই যার একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবেশ আদালতে বিদ্যমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধি এবং সাক্ষ্য আইন অনুসারে বিচারকাজ পরিচালনা করার জন্য পৃথক কার্যপ্রণালি বিধিও তৈরি করা হয়নি। ফলে দেখা যায় বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রতা আর মামলার জট। 

তবে কিছু আশাব্যঞ্জক নীতিমালা পরিলক্ষিত হয়। জাতীয় পরিবেশ নীতি (১৯৯২), জাতীয় পরিবেশ অ্যাকশন প্ল্যান (১৯৯২), বননীতি (১৯৯৪), বনায়ন মাস্টার প্ল্যান (১৯৯৩-২০১২) ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) উল্লেখযোগ্য। জাতীয় সংরক্ষণ কৌশল (ন্যাশনাল কনজারভেশন স্ট্র্যাটেজি) এবং বিশেষত জাতীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা অ্যাকশন প্ল্যান সবার সহযোগিতায় প্রণীত হয়েছে। উপরন্তু ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নে বিভিন্ন সামাজিক শক্তিসহ সরকারি বিধি ও নিয়ন্ত্রণের মতো বিভিন্ন নীতিগত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে যদিও সবক্ষেত্রে ফলাফল মিলছে না। 

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক জরিপে দেখা যায়, হাজারীবাগ ট্যানারী থেকে দিনে ২২ হাজার ঘনমিটার আর বছরে ৮০,৩০,০০০ ঘনমিটার তরল বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। যা পরিবেশের ৪০,১৫,০০,০০০ টাকার ক্ষতি করছে। পরিবেশ দূষণ ঠেকানোর জন্য ঢাকা ও চট্রগ্রামে দুটি পরিবেশ আদালত রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আদালত দুটোতে মামলা অনেক কম। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫’র ১৭ ধারায় উল্লেখ আছে-ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি পরিবেশ আদালতে সরাসরি মামলা করতে পারবে। তারপরও আদালতে মামলার পরিমাণ কম কেন? 

পরিবেশ আদালত আইন ঘেটে দেখা যায়, ৭(৪) ধারায় বলা আছে-পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ করার ৬০ দিন পর আদালত মামলা আমলে নিতে পারবে, এর আগে নয়। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯’র তফসিলে উল্লেখ আছে-পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কেবল ২টি ধারা [১৫এ (৩-৪ঘ) যানবাহন দূষণ ও পরিবেশ দূষক সামগ্রী বিক্রয় ব্যাপারে] ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার করতে পারবে। পরিবেশ নিয়ে বাকি অপরাধের বিচার পরিবেশ আদালত করবে। তাহলে সমস্যটা কোথায়? আদালতে মামলা আসছে না কেন? সচেতনতার অভাব। মানুষ জানেই না পরিবেশ দূষিত হলে মামলা করা যায় এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। আর পরিবেশ ঠিক রাখতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ গণসচেতনতা। এ নিয়ে কাজ কিছু চোখে পড়ে না এখন।

আমাদের মনে রাখতে হবে, মানবাধিকারের ধারণা আজ শুধু মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দূষণমুক্ত পরিবেশ প্রাপ্তির অধিকারটিও। দূষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস করার অধিকার আজ একটি সর্বজন স্বীকৃত মানবাধিকার। শুধু আজকের নয়, আমরা আগামী প্রজন্মের জন্যও চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ। আর এর জন্য কাগুজে আইন নয়, প্রয়োজন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন। আমরা সাধারণ জনগণ স্বপ্ন দেখি সুন্দর, স্বপ্নের সমান স্বস্তির এক ঢাকা শহরের। আমাদের স্বপ্ন কি বাস্তবতার সমান্তরালে দাঁড়াবে না কোনোদিন?


হাসান হামিদ
কথা সাহিত্যিক ও গবেষক

x