Skip to content

অমিক্রন ছড়িয়েছে ৩৮ দেশে

দেশে দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে প্রতিদিনই রোগী দ্বিগুণ হচ্ছে। এই অঞ্চলেই প্রথম অমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। গত চার দিনে দেশটিতে রোগী শনাক্ত চার গুণ বেড়েছে।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন অমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা সে দেশে ১০৪-এ পৌঁছেছে। অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর গত দুই দিনে দেশটিতে সর্বশেষ অমিক্রন সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে।

অমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডব্লিউএইচওর প্রধান বিজ্ঞানী। গত শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সব সময় প্রস্তুত এবং সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, গত বছরের চেয়ে আমাদের পরিস্থিতি ভিন্ন।’

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, অমিক্রন ধরনে করোনার টিকা কাজ করবে কি না, সেটি নিয়ে কথা বলার মতো সময় এখনো আসেনি।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, অমিক্রন ধরনের সংক্রমণে এখনো কোনো মৃত্যুর কথা তারা জানতে পারেনি। তবে নতুন এই ধরন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সব দেশকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, মাত্র দুই দিনে ২৩ দেশ থেকে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রন ৩৮টি দেশে শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অমিক্রন নিয়ে প্রাথমিক একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা। সেখানে দেখা গেছে, ডেলটা ও বেটা ধরনের তুলনায় অমিক্রনের পুনরায় সংক্রমিত করার ক্ষমতা তিন গুণ বেশি। এ ছাড়া আগে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে গড়ে ওঠা প্রতিরোধব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতা অমিক্রনের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেডক্রস অমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য করোনার টিকা প্রদানে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছে। সংস্থাটির প্রধান ফ্রান্সেসকা রোকা বলছেন, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের হারে বৈষম্যের কারণে কত বড় বিপদ আসতে পারে, অমিক্রনের সংক্রমণ তার প্রমাণ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় শিশুদের মধ্যে অমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ছে। দেশটির চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির হার ঊর্ধ্বমুখী। তবে তাঁরা বলছেন, কম বয়সীদের ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি বেশি, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

সুনামগঞ্জমিরর/এসপি

x