Skip to content

সুনামগঞ্জের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট চরমে

শিক্ষক সংকট নিয়ে ধুঁকছে সুনামগঞ্জ জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় এসব স্কুলে নামমাত্র পাঠদান সেবা দেওয়া হচ্ছে।

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলায় শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের চরম আকার ধারণ করায় কঠিন সময় পার করছে জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয় এবং এস.সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষকদের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষাখাতে এই দুই বিদ্যালয়ের অনেক সুনাম ও অর্জন থাকলেও শিক্ষক সংকটে বর্তমানে তা তলিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

শিক্ষক সংকট, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা, এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ে ক্লাস নেওয়া, লাইব্রেরিয়ান সংকটসহ নানা সমস্যায় পর্যুদস্ত জেলার এই বিদ্যালয়গুলো।

জানা যায়, সরকারি এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জন শিক্ষকের সৃষ্ট পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯ জন শিক্ষক। ২৩ জন শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়ে কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এ বিদ্যালয়টি। সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। এখানেও ৫২জন শিক্ষকের জায়গায় আছেন ৩০জন। এর মধ্যে নয় মাস পর একজন অবসরে চলে যাবেন। শিক্ষক সংকটের কারণে এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ে ক্লাস নিয়ে কোনোরকম চালানো হচ্ছে পাঠ কার্যক্রম। শিক্ষক সংকটে অনেকবার উচ্চ পর্যায়ে অবগত করলেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এই দুই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানরা।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৩টি পদের বিপরীতে শিক্ষক সংকট রয়েছেন ৪৬৯জন।

এর মধ্যে, সহকারী শিক্ষক বাংলায় শূন্য পদ ৩৩টি। এর মধ্যে ছাতক উপজেলায় রয়েছে ৭টি। ইংলিশে ৩৪টি সহকারী শিক্ষক শূন্যপদ থাকলেও বেশি ছাতক উপজেলায়। এখানে সংকটের পরিমাণ ৮জন। তাছড়া গণিতে ১৭টি সহকারী শিক্ষক আইসিটিতে পদশূন্য রয়েছে ৫৩টি। তবে এগুলোর মধ্যে দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় রয়েছে ১০ করে। সহকারী শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞানে রয়েছে ১১টি পদ শূন্য। কৃষিতে ২৫টি শূন্য পদের মধ্যে ছাতকেই ৫টি রয়েছে।

এছাড়াও সহকারী শিক্ষক ভৌত বিজ্ঞানে ৫৬টি শূন্য পদের মধ্যে ১১টি দোয়ারাবাজারে রয়েছে। সহকারী শিক্ষক শারীরিক শিক্ষায় শূন্য পদের ৩৬টির মধ্যে দোয়ারাবাজারে রয়েছে ১১টি। লাইব্রেরি ও তথ্য বিজ্ঞানে ৩৮টি শূন্য পদের মধ্যে ১২টি ছাতক উপজেলায় রয়েছে। সহকারী শিক্ষক চারু কারু ৩টি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২টি, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় ৭টি।

এদিকে, এবতেদায়ি মৌলভীর শূন্যপদ ২৫টির মধ্যে ৬টি করে রয়েছে ছাতক ও দোয়ারাবাজারে। সহকারী মৌলভীর ৪২টি শূন্য পদের মধ্যে ১৫টি রয়েছে ছাতক উপজেলায়।

সহকারী মৌলভ ক্বারী শূন্য পদ ৫টি, আরবী প্রভাষক ৬টি, প্রভাষক কম্পিউটার অপারেশন ১টি। এবতেদায়ি প্রধান ৮টি শূন্য পদ, এবতেদায়ি শিক্ষক ৪টি, সহকারী শিক্ষক জীব বিজ্ঞান ১৫টি শূন্য পদ রয়েছে।

এছাড়া জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের মধ্যে আরও রয়েছে, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর (জেনারেল ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ার্কস) ১টি, সহকারী শিক্ষক পদার্থ ২টি, সহাকারী শিক্ষক রসায়ন ২টি ট্রেড ইন্সট্রাক্টর (সিভিল) ১টি, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর (ইলেক্ট্রিক্যাল) ১টি, প্রভাষক উদ্যোক্তা উন্নয়ন ১টি, প্রভাষক ব্যবস্থাপনা ১টি। সহকারী শিক্ষক ব্যবসায় শিক্ষা ১টি, প্রভাষক বাংলা ৪টি, প্রভাষক ইংলিশ ২টি, প্রভাষক পৌরনীতি ২টি, সহকারী শিক্ষক হিসাব বিজ্ঞান ১টি, সহকারী শিক্ষক হিন্দু ধর্ম ৪টি, এবতেদায়ি ক্বারী ৯টি, প্রভাষক আইসিটি ৪টি, প্রভাষক সামাজিক বিজ্ঞান ২টি, জুনিয়ার মৌলভী ৩টি, সহকারী শিক্ষক খ্রিস্ট ধর্ম ১টি, ডেমোনেস্ট্রেটর (আইসিটি) এটি, ইতিহাসের প্রভাষক ২টি, প্রভাষক যুক্তিবিদ্যা ১টি, শরীরচর্চা ডেমোসেস্ট্রেটর ১টি, ডেমোনেস্ট্রেটর কেমিস্ট্রি ১টি।

সরকারী জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান বলেন, জেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপিঠে শিক্ষক সংকট থাকাটা খুব হতাশার। আমরা ছেলে মেয়েদের চাহিদামতো শিক্ষা দিতে পারছি না। এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সর্বোচ্চ দিতে। শিক্ষক সংকটের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তব কোনো সমাধান মিলছে না। চাহিদামতো শিক্ষক না থাকলে এই ছেলেমেয়েগুলো কি শিখবে?

সরকারি এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে এখানে শিক্ষকের স্বল্পতা। ৫২ জন শিক্ষকের সৃষ্ট পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯ জন শিক্ষক। ২৩ জন শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়ে কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের। এভাবে যেতে থাকলে একদিন প্রতিষ্ঠানটি নিজের ঐতিহ্য হারাবে।’

জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সুনামগঞ্জে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৩৪টি। বেশির ভাগ বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট থাকলেও আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করে চাহিদা পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলায় অনেক শিক্ষক সংকট রয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।’

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x