Skip to content

হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁওয়ে নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি

সদর উপজেলার হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও­ এলাকায় সুরমা নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম ফেরি। ফেরি দিয়ে নদী পারাপারে সময় নানান দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীর । নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নদী পারাপার সহজে হয়ে উঠে না। রাত-বিরাতে নদী পারাপার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আর এসব ভোগান্তি দূর করতে সেতু নির্মাণের দ্রুত বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী। এলাকাবাসী মনে করেন, এই সেতু কেবল লাখো মানুষের যোগাযোগের উন্নয়ন নয় অর্থনৈতিকভাবে বদলে দেবে হাওর অঞ্চল নামে খ্যাত জেলা সুনামগঞ্জকে।

এলাকাবাসী মনে করেন, সুরমা নদীর হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও­ এলাকায় সেতু নির্মাণ হলে সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়ন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ও লক্ষীপুর ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের কৃষ্ণনগর গ্রামের তাজুল ইসলাম বললেন, হালুয়ার-ধারারগাঁও সেতু নির্মাণ হলে উত্তর সুরমার লাখো মানুষের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। সেতু নির্মাণ হলে রাজধানী থেকে সরাসরি পরিবহন আসতে পারবে এবং এলাকার উৎপাদিত শাক-সবজি অধিক মূল্যে বিক্রি করতে পারবে স্থানীয় কৃষকরা। যোগাযোগের অব্যবস্থার কারণে সবজি উৎপাদনের এই এলাকার কৃষক কম দামে সবজী বিক্রি করতে বাধ্য হন।

উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের সদস্য সচিব সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন মনে করেন, সীমান্তের ডলুরায় বর্ডার হাট রয়েছে, মানুষের দাবি আছে ওখানে ইমিগ্রেশনসহ শুল্কবন্দর করার। এই দাবি বাস্তবায়নেরও প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সেতু হলে ইমিগ্রেশনসহ শুল্ক বন্দরের কাজও দ্রুত এগুবে।

উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রব বলেন, ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট­ সেতু হলে বদলে যাবে লাখো মানুষের অর্থনৈতিক চিত্র। এই সেতু নির্মাণের জন্য বহুদিন হয় সংশ্লিষ্ট নানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ধারারগাঁওয়ের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদ্য অবসর নেওয়া চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। অন্যান্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরাও চেষ্টা করছেন। এই সেতু এবং সুরমার উত্তরপাড়ের দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার পর্যন্ত যোগাযোগ সড়কের উন্নয়ন হলে কেবল উত্তরপাড়ের মানুষের নয়, জেলা শহর সুনামগঞ্জের গুরুত্বও অনেক বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদ্য অবসরে যাওয়া চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, একই বছরের পহেলা মার্চ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী, ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব আব্দুল মালেককে হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও­য়ে সেতু নির্মাণের জন্য অনুরোধপত্র দিয়েছিলেন।

ড. মোহাম্মদ সাদিকের অনুরোধপত্রে ৬ ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগের পাশাপাশি ডলুরায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ৪৮ শহীদের শহীদ মিনারে যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান, ডলুরায় হওয়া দুই দেশের সীমান্তহাটে যাতায়াত সুবিধা এবং ডলুরায় শুল্কবন্দর হবার যে কাজ শুরু হয়েছে, এই শুল্কবন্দরে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য এই সেতু জরুরি উল্লেখ করেছিলেন।

ড. মোহাম্মদ সাদিক এ প্রসঙ্গে বলেন,‘সুরমার উত্তরপাড়ের সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারা বাজারের কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি, ডলুরায় শুল্কস্টেশন হলে দুই দেশের পণ্য পরিবহনে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যটন সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জ সদর দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকায় যাতায়াতে পর্যটকদেরও সুবিধা হবে। এলাকার সন্তান হিসাবে আমি চেষ্টা করেছি-করছি, মানুষের আকাঙ্খিত এই উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়ন করা যায় কী-না।’
এছাড়া সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এই সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধপত্র দেওয়াসহ নানাভাবে চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম সাংবাদিকদের জানান, এই প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ আশানুরূপভাবে এগিয়েছে। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ’এর একটি কারিগরি দল এবং বুয়েট’এর একটি সার্ভে দল এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেন, সুরমা নদীর ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট­ এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি অনেক দিনের। এলাকার মানুষ ছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা আমাকে এই দাবির কথা একাধিকবার বলেছেন। সংশ্লিষ্টদের বলেছি, দ্রুত প্রাথমিক কাজ শেষ করে প্রকল্প প্রস্তাবনা অগ্রবর্তী করার জন্য। আমরা এই প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং কিভাবে দ্রুত প্রকল্পটিকে বাস্তবায়ন করা যায় সেই দিকেই আমদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

  • আরিফুল ইসলাম আরিফ

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x