Skip to content

রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা বিশ্বব্যাংকের

দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ধারায় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। টানা আট মাস ধারাবাহিকভাবে এ খাতে আয় কমেছে। চলতি বছর এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির গতি আগের বছরের অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

সংস্থাটির তথ্য মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে গত বছর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে অনেক কম। ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ, যা চলতি বছর আরও কমতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানে ২০২১ সালে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৮ ও ২০ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে গত বছর রেমিট্যান্সের জোরালো প্রবাহের কারণে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা এবার কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি বছর বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে ভারতে প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ও নোম্যাডের এক যৌথ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘মহামারিকালে এক যুদ্ধ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় অভিবাসনের সম্ভাব্য অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রবাসী আয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি গত বুধবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, করোনার মধ্যে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় উল্লম্ফন হয়েছিল, যার বড় একটি অংশ আগে মূলত অবৈধ পথে আসত। যোগাযোগ ও অবৈধ পথ বন্ধ থাকার ফলে সব রেমিট্যান্স ওই সময় ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে।

এখন যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা কমে গেছে। তবে বর্তমানে যে হারে বিদেশে কর্মী যাচ্ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রবাসী আয়ের ধারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ভারতে রেমিট্যান্স এসেছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। প্রবাসী পাকিস্তানিরা দেশে পাঠিয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে গত বছর এসেছে ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। এ সময় নেপালে প্রবাসী আয় হয়েছে ৮২০ কোটি ডলার।

দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২১ সালে প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি ২৩ শতাংশ কমেছে চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে থাকায় শ্রীলংকায়। এ সময় দেশটিতে এসেছে মাত্র ৫৫০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম হয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ একই স্থানে ছিল। গত বছর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় পেয়েছে ভারত ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এরপর ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল মেক্সিকো।

৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল চীন। এরপর রয়েছে ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও মিসর। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ তৃতীয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সোয়া কোটির মতো প্রবাসী ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ (২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে পাঠিয়েছিলেন ১৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে টানা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমেছে।

বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে কাজ করতে যান। সে কারণে তাদের মজুরিও কম। প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি কায়িক শ্রমিকদের গড় মাসিক মজুরি ২০৩ ডলার। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানি শ্রমিকদের মজুরি ২৭৬ ডলার, ভারতীয়দের ৩৯৬ ডলার, ফিলিপাইনের শ্রমিকদের ৫৬৪ ডলার ও চীনা শ্রমিকদের মজুরি ৫৩৩ ডলার।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x