Skip to content

বন্যা: সিলেটে দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের আশঙ্কা

অব্যাহত বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীতে বাড়ছে পানি। এ বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায়ও পানি ঢুকেছে। জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বাসা-বাড়ি। পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকালে নদীর তীর উপচে নতুন করে বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করছে। এ অবস্থায় বন্যাকবলিত দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বেড়েছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার শূণ্য দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার শূণ্য দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার শূনণ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার এবং সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার শূণ্য দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর বাইরে জেলার ছোট-ছোট নদ-নদীর পানিও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাউবো সিলেট’র নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিলেট নগরের ৮ থেকে ১০টি এলাকা ছাড়াও জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও সদর উপজেলার কমপক্ষে ৫০০ গ্রাম এরই মধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে।

একমাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে আবার বন্যাকবলিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বানভাসিরা। নগর ও ৫টি উপজেলায় কমপক্ষে চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান বলেন, পানি বাড়ছে। এতে ভোগান্তিও আরও বাড়ছে। এরই মধ্যে উপজেলায় ৪০টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিতদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে সিলেট মহানগরের তালতলা, জামতলা, সোবহানীঘাট, তেরোরতন, উপশহর, কালীঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পাশের সুরমা নদীর পানি উপচে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি উঠেছে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, স্থানীয় প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতির দিকে সার্বিক নজরদারি রাখছেন। প্রয়োজনীয় স্থানে আশ্র কেন্দ্র চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x