Skip to content

ওসমানী মেডিকেলে হামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই শিক্ষার্থীকে হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি দিব্য সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৩ আগস্ট) দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় শাহপরাণ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।।

এর আগে সোমবার (১ আগস্ট) দিনগত রাত দেড়টার দিকে মামলার অপর দুই আসামি সাঈদ হাসান রাব্বি ও এহসান আহমদকে গ্রেফতার করে এসএমপি’র কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

এদিকে মামলার আসামিদের গ্রেফতারে বুধবার দুপুরে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে দাবি পুরণ না হলে বহির্বিভাগসহ ওসমানী হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ারও ঘোষণা দেন তারা। বুধবার বিকেলে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার শেষে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

ওসমানী মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার রাত থেকে আন্দোলন শুরু হয়। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) পুলিশ, হাসপাতাল প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্দোলনকারীদেও বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় ওসমানী হাসপাতালের জরুরি ও হৃদরোগ বিভাগ ছাড়া সকল বিভাগে কার্যক্রম বন্ধ রাখেন ইন্টার্নরা।

বুধবার সকাল থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে তারা বিক্ষোভ করে বেলা ২টার দিকে হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। এসময় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাসপাতালের মূল ফটকও বন্ধ করে দেন তারা। ঘন্টাখানেক পর প্রশাসনের অনুরোধে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ইমন আহমদ ও রুদ্র নাথ নামে দুই শিক্ষার্থীর ওপর কলেজের পেছনে হামলা হয়। আহত অবস্থায় তাদেরক উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন সহপাঠীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাত ১০টার দিকে ধর্মঘটের ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা হাসপাতালের সব বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। এছাড়া কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেট মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এবং সিলেট আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। পরে রাত ১টার দিকে আন্দোলনরতের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মেডিকেল প্রশাসনের মামলা করাসহ পাঁচ দাবি জানান।

তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে রাত ৩টার দিকে ধর্মঘট ও অবরোধ স্থগিত করেন আন্দোলনরতা। তবে এসময় তারা হামলাকারীদের গ্রেফতারে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বেলা ২টা পর্যন্ত সম বেঁধে দেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওইদন বেলা ২টায় আন্দোলনরতদের সঙ্গে কলেজ, হাসপাতাল, পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আবারও বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকের দাবিগুলো দ্রতম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হয়। তবে হামলাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বৈঠক শেষে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

অপরদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে লাঞ্চিতের অভিযোগে ৮ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x