Skip to content

আবারও যুদ্ধের মুখোমুখি গাজা-ইসরাইল


গাজা উপত্যকায় কয়েক দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। শুক্রবারের (৫ আগস্ট) এ হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বরাতে আরব নিউজ এমন খবর দিয়েছে। হামলা পাল্টা-হামলার মধ্য দিয়ে দুপক্ষ ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের কাছাকাছি চলে গেছে।

ইসরাইল বলছে, আসন্ন হুমকির জবাবে প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামি জিহাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। সম্প্রতি আরেক প্রতিরোধ যোদ্ধাকে আটক করে দখলদার বাহিনী।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলে বৃষ্টির মতো রকেট নিক্ষেপ করে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এ সময়ে ইসরাইলে বিমান-হামলার সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করে দেয়া হয়। ইসরাইলে শতাধিক রকেট হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে ইসলামিক জিহাদ।

এরআগে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চারটি যুদ্ধ হয়েছে। গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে তারা সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছেন। এতে ২০ লাখ মানুষের বসতি গাজা উপত্যকাকে ভয়াবহ খেসারত দিতে হয়েছে।

শুক্রবার গাজা শহরে বিস্ফোরণ শোনা গেছে। একটি দীর্ঘ ভবন থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমান হামলায় তিনটি প্রহরী টাওয়ার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এসব ভবনে লুকিয়ে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ বলেন, বাস্তবিক হুমকির ওপর ভিত্তি করে এই হামলা চালানো হয়েছে। যে কোনো হামলা চেষ্টার বিরুদ্ধে শূন্য-সহনীয়তা নীতি মেনে চলা হবে।

কোনো বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলা হলে ইসরাইল বসে থাকবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ইয়ার লাপিদ বলেন, ইসরাইল বড় ধরনের সংঘাতে আগ্রহী না-হলেও কোনো কিছুর ভয়ে থেমে যাবে না।

এই সহিংসতা ইয়ার লাপিদের জন্যও পরীক্ষা তৈরি করছে। নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পদটিতে বহাল থাকার প্রবল ইচ্ছাও পোষণ করছেন তিনি। এরআগে তিনি ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যে কারণে কূটনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ইয়ার লাপিদ।

নতুন সংঘাতে যোগ দেবে কিনা; তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে রয়েছে হামাস। কেবল বছরখানেক হয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে তাদের একটি যুদ্ধ হয়েছে। ওই সহিংসতায় উপত্যকাটিতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরাইল। এরপর অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণও তেমন একটা হয়নি।

বিশ্ব থেকে একঘরে করে রাখা হয়েছে গাজাকে। যে কারণে অঞ্চলটি চরম দারিদ্র্যে নিমজ্জিত। বেকারত্বের হারও ৫০ শতাংশের মতো। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, শনিবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যা শিশু ও ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী রয়েছে। হতাহতদের মধ্যে সামরিক-বেসামরিক হিসাব আলাদা করা হয়নি।

কিন্তু ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলছে, হামলায় ১৫ প্রতিরোধ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন কয়েক ডজন।

নিহতদের মধ্যে ইসলামিক জিহাদের উত্তরাঞ্চলীয় গাজার কমান্ডার তাইসের আল-জাবারিও আছেন। তার পূর্বসূরিও ২০১৯ সালের বিমান হামলায় নিহত হন। ইসরাইলি হামলায় নিহতদের জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নিয়েছেন। ফিলিস্তিন ও ইসলামিক জিহাদের পতাকা উড়িয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ঘোষণা দেন শোকাহতরা।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x