বাউল শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী

গানে গানে শোষণ-বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেছেন। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা নানা আন্দোলন সংগ্রামে গণ-মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। অর্ধ শতাব্দিরও বেশি লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের দ্বারা নানা লাঞ্ছনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ভাষার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে পথে পথে গান গেয়ে গণজাগরণ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। পেয়েছেন একুশে পদকও

সেই গুণী গণসংগ্রামী অসংখ্য বাউল গানের রচয়িতা শাহ্ আব্দুল করিমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর)। কিংবদন্তিতুল্য এই বাউলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উজানধলের বাড়িতে দোয়া, মিলাদ মাহ্ফিল, আলোচনা সভা এবং রাত নয়টা থেকে বাউল আসরের আয়োজন করা হয়েছে।

বাউল শাহ্ আব্দুল করিম সশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও, তার লেখা মানবতার, অসাম্প্রদায়িকতার কথা লাখো বাউলের কণ্ঠে ছড়িয়েছে পৃথিবীব্যাপী। প্রয়াত এই বাউলের সুরধারার ভক্ত সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষি মানুষ। মৃত্যুর পর থেকে সাধারণের কাছে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বাউল শাহ্ আব্দুল করিম।

তার ভক্ত বাউলেরা বললেন, শাহ্ আব্দুল করিমের স্বপ্নের পৃথিবী দেখতেই পথে পথে গান গেয়ে বেড়ান তারা। বন্যায় উজানধলের শাহ্ আব্দুল করিমের স্মৃতি জাদুঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানালেন স্থানীয়রা।

জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল বললেন, ‘বাউল সর্ম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক গান এখনকার প্রেক্ষাপটে বড়ই প্রাসঙ্গিক। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা শাহ্ আব্দুল করিম না থাকলেও তার গান আর সুর কখনও মানুষকে আনন্দ দেবে, কখনও বা গণজাগরণকে শাণিত করবে।’

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই বাউল সম্রাট। ২০০৯ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন শাহ্ আব্দুল করিম।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x