২০০ নলকূপে পানি না থাকায় ভোগান্তিতে ১১ গ্রামের মানুষ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের দুই শতাধিক অগভীর নলকূপে পানি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ১১ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সমস্যায় ভুগছেন তারা। পুকুর ও বিলের পানি ফুটিয়ে ফিটকিরি মিশিয়ে পান করছেন। বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, বানীপুর, কোনাগাঁও, ঢালাগাঁও, নলুয়া, বাঘমারা, তেরাপুর, বেরীগাঁও, পার্বতীপুর, ষোলঘর, ভৈষারপাড় গ্রামে অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না অনেক দিন ধরে। গত দুই বছর আগে তেরাপুর এলাকায় সোলার সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়। ওই সময় থেকে সাধারণ নলকূপে পানি ওঠার সমস্যা শুরু হয়। এবার শুকনো মৌসুম শুরু হতেই নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়।

মাঝে মধ্যে সামান্য পরিমাণে পানি ওঠে। এই পানিতেও রয়েছে আয়রন। পানিতে গ্লাস লালচে হয়ে যায়। এ কারণে পানি ব্যবহার করতে পারছেন না এসব গ্রামের বাসিন্দারা।

কৃষ্ণনগর গ্রামের চিকিৎসক ডা. রোশন ইসলাম জানান, এলাকার প্রায় সব কটি অগভীর নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পুকুর ও বিলের পানি ফুটিয়ে ফিটকিরি দিয়ে বেশিরভাগ পরিবারে খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাংসারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুকুর ও বিলের পানি। এ কারণে পেটের পীড়া, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অগভীর কোনো নলকূপে পানি উঠছে না। পুকুরের পানি ফুটিয়ে খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করছি।’

তেরাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, কোনো কোনো নলকূপে সামান্য পরিমাণে পানি আসলেও আয়রনের কারণে পান করা যায় না। নিমিষেই কাচের গ্লাস লালচে হয়ে ওঠে।

পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল মিয়া জানান, তেরাপুর এলাকায় সোলার সেচ পাম্প চালু করার পর থেকে নলকূপে পানি উঠতে সমস্যা হচ্ছে।

সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘এলাকায় খাবারের বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পানি ব্যবহারে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। এই সমস্যা সমাধানে এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন জরুরি বলে মন্তব্য করেন সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘বছরের পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র মাস পর্যন্ত পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপে পানি ওঠে না। বৃষ্টি হলে অবশ্যই পানি উঠবে। ওইসব এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

  • লিপসন আহমেদ

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x