সুনামগঞ্জ পর্যন্ত ৬ লেন সড়ক চাই : পীর মিসবাহ

সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ঢাকা-সিলেট সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে সুনামগঞ্জকে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বিকালে ‘সুনামগঞ্জবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এক গণসমাবেশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের সাথে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অর্ন্তভুক্ত ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎক সংকট দূর করার দাবি জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন সাংসদ মিসবাহ।

শহরের আলফাত স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েন্ট) অনুষ্ঠিত গণসমাবশে প্রধান অতিথির বক্তব্য পীর মিসবাহ বলেন, সকলে মিলে অধিকার আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে হবে। হাওরের উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী উদার। তিনি আমাদের কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। ঢাকা-সিলেট ৬ লেন সড়কের সঙ্গে এবার সুনামগঞ্জ যুক্ত না হলে আর কোনদিন যুক্ত হবে না। তাই দাবি আদায়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের সম্পদ আর প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ নিয়ে রাজা-রাণীর খেলা চলতে দেওয়া হবে না। যেখানে দুর্নীতি হবে সেখানেই জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।

পীর মিসবাহ’র নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে হাজারও মানুষ এই গণসমাবেশে এসে মিলিত হন।

এসময় পীর মিসবাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সিলেট বিভাগের উন্নয়নে ৬ লেন মহাসড়ক করার জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা যদি এই প্রকল্প সুনামগঞ্জ পর্যন্ত নিয়ে আসতে ঐক্যবদ্ধভাবে তার কাছে চাইতাম, তবে তিনি অবশ্যই আমাদের দাবি পূরণ করতেন। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল, জানি না তিনি কী করেছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে সিলেট বিভাগের তিনটি জেলার এর সাথে যুক্ত হবে। কিন্ত আমরা এর বাইরে থেকে যাব। এখনই সময় বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার।’

জেলার স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, জেলার ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির একমাত্র জায়গা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানের পদগুলো শূন্য। ৬০ জনের জায়গায় ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ১৪ জন। এতে মানুষ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমি সংসদে, সংসদের বাইরে এ নিয়ে কথা বলেছি। কোন লাভ হয় নাই। হাসপাতালটিতে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি থাকার পরও জনবলের অভাবে সেবা পাচ্ছে না মানুষ। জরুরীভিত্তিতে ডাক্তার-নার্স নিয়োগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। সেইসাথে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চালু করতে হবে। এতে করে ডাক্তার সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি সেটি অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, এটা বন্ধ করতে হবে।’

জেলায় চলমান ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার কৃষকের বছরের একটি মাত্র ফসল রক্ষা করতে ১৩৩ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ, নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিময়-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আসছে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধে। কারো অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কারণে মানুষের সোনার ফসল যদি পানির নিচে তলিয়ে যায়, তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পীর মিসবাহ আরো বলেন, নদী ভাঙন রোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের করতে হবে। অনেক স্থানে মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিল খনন কাজে অনিয়ম দুর্নীতি করে রাজা-রানীর খেলা চলছে। সেটির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর নির্বাচনী এলাকা হালুয়ারঘাট ও চলতি নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে রেল লাইন স্থাপনের যে সার্ভে চলছে যেটি যেন জায়গায় থাকে। অন্য কোনদিকে ঘুরিয়ে এতে যেন ব্যাঘাত সৃষ্টি না করা হয়।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সজ্জাদুর রহমান সাজুর সঞ্চালনায় গণসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি সাইফুর রহমান সামছু, সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোশনূর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মাস্টার, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, জেলা জাপা নেতা রশিদ আহমদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, জেলা জাপার সদস্য সচিব ও সাবেক প্যানেল মেয়র মনির উদ্দিন মনির, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর পেয়ারা বেগম প্রমুখ।

সিলেটভয়েস/সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x