শিক্ষার্থী প্রণয় বর্মণকে জেলা প্রশাসকের সহায়তা

মেধাবী শিক্ষার্থী প্রণয় বর্মনকে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। 

রোববার (১১ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রণয়ের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এসময় প্রণয়ের বাবা নারায়ণ বর্মণ উপস্থিত ছিলেন। সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসক এর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এবারের মেডিকেল কলেজে ভর্তির ফলাফলে মেধাতালিকায় ৪৩৬তম স্থান অধিকার করেছেন প্রণয় বর্মণ। তিনি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। কিন্তু আর্থিক কারণে তার ভর্তি নিয়ে শঙ্কায় ছিল তার পরিবার।

জীবনসংগ্রাম করে এ পর্যন্ত আসা প্রণয় বর্মণের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মধ্য তাহিরপুর গ্রামে। বাবা নারায়ণ বর্মণ পেশায় জেলে। হাওরে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরেন। মা মণি বর্মণ এলাকায় পাথর ভাঙার কলে শ্রমিকের কাজ করেন। এই দম্পতির দুই ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে প্রণয় বর্মণ দ্বিতীয়। তিন বছর আগে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ১২। তাহিরপুর গ্রামে একটি খুপরিঘরে চারজনের পরিবারটির বসবাস।

আরও পড়ুন: মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও উদ্বিগ্ন প্রণয়

জানা যায়, লেখাপড়ার খরচ জোগাতে একসময় প্রণয় বর্মণকে পাথর ভাঙার কলে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। তখন ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে ছুটতে হতো নদীতে। দিনভর বালু টানার কাজ শেষে সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফিরতেন বাড়িতে। কিন্তু দিনের ঘাম জড়ানো সেই ক্লান্তি পেছনে রেখে বই নিয়ে পড়তে বসতেন তিনি। অভাবের সংসারে খেয়ে না খেয়ে দিন গেছে। তাঁর সেই শ্রম, ঘাম জড়ানো কষ্ট সফল হয়েছে।

প্রণয়ের ইচ্ছা, লেখাপড়া করে চিকিৎসক হয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন। ‘গরিবের ডাক্তার’ হতে চান তিনি। প্রণয়কে সাহায্য করার জন্য নানাজন হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এলাকাবাসীর বিশ্বাস সহযোগিতা পেলে প্রণয় ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু করে দেখাতে পারবে।

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x