সিলেটে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ, বাড়ল আইসিইউ শয্যা

সিলেটে দিন দিন বাড়ছে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকেই সিলেটে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে রোগী বাড়ছে হাসপাতালগুলোতেও।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় বুধবার (২৮ এপ্রিল) পর্যন্ত মহামারি করোনায় প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৩৪১ জনের। আর সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৪৮৭ জনে।

অন্যদিকে সিলেটের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর বেশিরভাগই কানায় কানায় পূর্ণ। রোগী ভর্তিও ভিড় বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। এমন অবস্থায় নগরের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। এই ইউনিটগুলোতে আছে আইসিইউ সুবিধাও।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত রোগীরদের জন্য একটি ২০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার শিগগিরই চালু হচ্ছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে ২০০ শয্যার ওই আইসোলেশন সেন্টার চালুর বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ইউনিট চালু হলে সিলেটে করোনা চিকিৎসা নিয়ে চলমান সঙ্কট অনেকটা কেটে যাবে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৪০ হাজার ২২৫ প্রবাসী দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তাদেরকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ। সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্র সময়ের আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নগরের ৮টি হাসপাতালে ২২৪টি আইসোলেশন বেড তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৩টি আইসিইউ বেডও। আর বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলিয়ে প্রস্তুত আছে ৯১৫ আইসোলেশন বেড। এর মধ্যে আইসিইউ বেড আছে ৫২টি।

বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে থাকা সিলেটে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত রয়েছে আইসোলেশন ও আইসিইউ বেড। সিলেটের ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালসহ সিলেটের ২৩টি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ৭১৪টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে।

আর আইসিইউ বেডের বেশিরভাগই সিলেট জেলায়। এ জেলায় আইসিইউ বেড রয়েছে ১১০টি। আর মৌলভীবাজারের ১৩৯ বেডের আইসোলেশনের বিপরীতে আইসিইউ বেড আছে মাত্র ৫টি।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে কোনো আইসিইউ বেড নেই। তবে সুনামগঞ্জে হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্ত্র মিলিয়ে ১৪৯টি আইসোলেশন বেড আর হবিগঞ্জে ১৩৫টি আইসোলেশন বেড রয়েছে। সংক্রমণের হারে সিলেট বিভাগের মধ্যে এই দুই জেলা যথাক্রমে দুই ও তিন নাম্বারে রয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, গত বছরের ৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা। বুধবার (২৮ এপ্রিল) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৪১ জন।

এর মধ্যে করোনায় বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট জেলায়। এ জেলায় করোনায় কেড়ে নিয়েছে ২৬৮ প্রাণ; সুনামগঞ্জে ২৭, মৌলভীবাজারে ২৮ এবং হবিগঞ্জে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x